মেয়াদ ফুরোনোর আগেই আমুলের দইয়ে ভর্তি ছত্রাক! সোশ্যালে ছবি ভাইরাল হতেই কী সাফাই দিল সংস্থা?

আজকের দিনে দৈনন্দিন রান্নাবান্না থেকে শুরু করে চটজলদি খাওয়া-দাওয়ায় প্যাকেটজাত পণ্যের উপর নির্ভরতা বাঙালি তথা দেশবাসীর নিত্যদিনের অভ্যাস। কিন্তু আপনিও যদি নিয়মিত প্যাকেটজাত দই বা দুগ্ধজাত খাবার খেয়ে থাকেন, তবে এই ঘটনা আপনার চোখ কপালে তুলতে বাধ্য। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় আমুলের অত্যন্ত জনপ্রিয় ‘মস্তি দই’ (Amul Masti Dahi) নিয়ে এক গ্রাহকের করা বিস্ফোরক পোস্ট রীতিমতো ঝড়ের বেগে ভাইরাল হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ফ্রিজে থাকা সত্ত্বেও মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার বহু আগেই ওই দইয়ে ছত্রাক বা ফাঙ্গাস ধরে গিয়েছে!
গ্রাহকের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ: সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, এক ক্রেতা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’ (X)-এ আমুলের দইয়ের সেই ছবি পোস্ট করে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন যে, মেয়াদ শেষ না হওয়া সত্ত্বেও একটি সিল করা প্যাকেটজাত পণ্য কীভাবে নষ্ট হয়ে যেতে পারে? এমনকি পুরনো পণ্যের লেবেল বা স্টিকার বদলে সেগুলির মেয়াদ কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে কি না, সেই নিয়েও তীব্র সংশয় প্রকাশ করেন ওই গ্রাহক। এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।
কী জানিয়েছে আমুল এবং FSSAI? সোশ্যাল মিডিয়ায় এই অভিযোগ চাউর হতেই নড়েচড়ে বসে আমুল কর্তৃপক্ষ। সংস্থার তরফে গ্রাহকের এই অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতার জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় এবং পুরো বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সঠিক তথ্য পেতে কোম্পানিটির পক্ষ থেকে অভিযোগকারী গ্রাহকের যোগাযোগের নম্বর, বাড়ির ঠিকানা এবং কোন দোকান বা আউটলেট থেকে পণ্যটি কেনা হয়েছিল, সেই সমস্ত বিবরণ চাওয়া হয়েছে। আমুলের দাবি, তাদের সমস্ত দুগ্ধজাত পণ্য কঠোর মান ও ফুড সেফটি স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (FSSAI)-এর নিয়ম মেনে বাজারে পাঠানো হয়।
এদিকে, এই ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর তা এফএসএসএআই (FSSAI)-এর নজরেও আসে। ফুড সেফটি বোর্ডের পক্ষ থেকে অভিযোগকারীকে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের খাদ্য নিরাপত্তা কমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, এই ধরনের যেকোনো খাদ্যে ভেজাল বা মান সংক্রান্ত অভিযোগ জানানোর জন্য সরকারি ‘ফুড সেফটি কানেক্ট’ (Food Safety Connect) অ্যাপটি ব্যবহার করার কথাও বলা হয়েছে। এই ঘটনার পর প্যাকেটজাত খাবারের মান ও গুণগত সুরক্ষা নিয়ে ক্রেতাদের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।