জীবিত নেতার ছবি দিয়ে কি আইন ভাঙল আমেরিকা? ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখাঙ্কিত নতুন কয়েন নিয়ে চরম বিতর্ক!

মার্কিন মুদ্রার ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা ঘটল। আমেরিকার স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে মার্কিন টাকশাল (US Mint) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি খোদাই করা একটি বিশেষ ১ ডলারের কয়েন বাজারে নিয়ে এসেছে। প্রায় দুই শতাব্দী পর এই প্রথম কোনো দেশের সরকারি মুদ্রায় কোনো জীবিত ব্যক্তির ছবি স্থান পেল, যা ঘিরেই বর্তমানে আমেরিকা জুড়ে আইনি ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
কয়েনের বিশেষত্ব ও ডিজাইন: এই বিশেষ স্মারক কয়েনটির সামনের দিকে রয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবয়ব এবং তার সঙ্গে খোদাই করা রয়েছে ‘স্বাধীনতা এবং ঈশ্বরে আমাদের বিশ্বাস’ (Liberty and In God We Trust) কথাটি। অন্যদিকে, কয়েনের পিছনের অংশে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের সরকারি সিলমোহরের সঙ্গে ‘250’ সংখ্যাটি লেখা রয়েছে, যা দেশটির স্বাধীনতার আড়াইশো বছর পূর্তিকে নির্দেশ করে। সোনালি রঙের এই কয়েনটি দেখতে খাঁটি সোনার মতো মনে হলেও এটি মূলত তামা, জিঙ্ক, ম্যাঙ্গানিজ এবং নিকেলের মতো বিভিন্ন ধাতুর মিশ্রণে তৈরি করা হয়েছে।
আইনি মূল্য বনাম সংগ্রাহকদের ক্রেজ: মার্কিন অর্থ দফতর ও ইউএস মিন্ট স্পষ্ট জানিয়েছে যে এটি একটি লিগ্যাল টেন্ডার, অর্থাৎ এর সরকারি আইনি মূল্য মাত্র ১ ডলার। তবে কয়েন সংগ্রাহকদের (Collectors) কাছে এর চাহিদা আকাশছোঁয়া। ২৫টি কয়েনের একটি রোলের দাম ৬১ ডলার এবং ১০০টি কয়েনের ব্যাগের দাম ১৫৪.৫০ ডলার ধার্য করা হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মুদ্রামূল্যের তুলনায় এগুলির দাম অনেকটাই বেশি।
কেন শুরু হয়েছে বিতর্ক? এই নতুন কয়েনটি বাজারে আসার পর থেকেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে মার্কিন আইনকে ঘিরে। আমেরিকার প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণত সরকারি মুদ্রায় কোনো জীবিত ব্যক্তির ছবি ব্যবহারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এর আগে ১৯২৬ সালে দেশের ১৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উপলক্ষে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজের ছবি একটি স্মারক কয়েনে দেখা গিয়েছিল। প্রায় এক শতাব্দী পর সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটায় সমালোচকরা প্রশ্ন তুলছেন যে, এই পদক্ষেপ কি আদতে বিদ্যমান আইনকে লঙ্ঘন করছে? যদিও মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ‘সার্কুলেটিং কালেক্টিবল কয়েন রিডিজাইন অ্যাক্ট অফ ২০২০’ আইনের আওতাতেই এই বিশেষ স্মারক কয়েনটি প্রকাশ করা হয়েছে।