প্রধানমন্ত্রীর কুরুচিকর পোস্টার বিতর্কে তীব্র ভর্ৎসনা হাইকোর্টের! শ্রীলেখা মিত্র পেলেন বড় স্বস্তি

মিছিলে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি আপত্তিকর ও কুরুচিকর পোস্টার হাতে নিয়ে সামিল হওয়ার অভিযোগে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। এই ঘটনায় টলিউড অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের তীব্র সমালোচনা করল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, সমাজের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তির এ ধরনের রুচিহীন পোস্টার হাতে নেওয়া কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। তবে এই মামলায় অভিনেত্রীকে এখনই গ্রেফতার করা যাবে না বলে জানিয়ে তাঁকে আগামী ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন রক্ষাকবচ দিয়েছে আদালত।

হাইকোর্টের ভর্ৎসনা ও পর্যবেক্ষণ: বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি ছিল। শুনানির সময় অভিনেত্রীর আইনজীবী দাবি করেন যে, যন্তর-মন্তরে ছাত্র-যুবদের উপর পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদেই ওই মিছিলে সামিল হয়েছিলেন শ্রীলেখা। কিন্তু পোস্টারের ছবি দেখার পর তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বিচারপতি বলেন, “এটা কোনো কার্টুন নয়, অত্যন্ত কুরুচিকর। কেন এই ধরনের পোস্টার করতে গেলেন? এটি সম্পূর্ণ রুচিহীনতার পরিচয়।” তবে অভিনেত্রীকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের কোনো প্রয়োজন নেই বলে আদালতের তরফে জানানো হয়েছে।

আদালতের বড় নির্দেশসমূহ:

  • শ্রীলেখা মিত্রের বিরুদ্ধে রাজ্যের বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া ১৬টিরও বেশি এফআইআর একসঙ্গে করে আনন্দপুর থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • অভিনেত্রীকে তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। পুলিশ তাঁকে তলব করলে হাজিরা দিতে হবে, তবে তার কমপক্ষে ৪৮ ঘণ্টা আগে নোটিশ দিতে হবে।

  • রাজ্যের যে কোনো থানা থেকে তাঁকে নোটিশ পাঠিয়ে হেনস্থা করা যাবে না; সমস্ত জিজ্ঞাসাবাদ কেবল আনন্দপুর থানাতেই হতে হবে।

  • আগামী ১৪ ডিসেম্বর পুলিশকে এই মামলার তদন্ত রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে। ওইদিনই পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট: গত ২০ জুলাই সর্বভারতীয় নিট-ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে দিল্লির যন্তর-মন্তরে ছাত্র বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের প্রয়োগের প্রতিবাদে কলকাতার ধর্মতলায় একটি প্রতিবাদ মিছিল হয়। সেই মিছিলেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি আপত্তিজনক পোস্টার প্রদর্শনের অভিযোগ ওঠে শ্রীলেখা মিত্রের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার জেরে বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ সহ একাধিক ব্যক্তি আনন্দপুর থানা, বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানা ও রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি তোলেন। হাইকোর্টের এই রায়ের ফলে আপাতত আইনি স্বস্তি পেলেও অভিনেত্রীকে আগামী দিনে পুলিশি তদন্তের মুখোমুখি হতেই হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *