ধর্ষণের মামলা করায় ভয়ঙ্কর প্রতিশোধ! প্রতিবেশীর বাড়িতে ঢুকে তরুণীকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে খুন

আইনি লড়াই লড়ার খেসারত দিতে হলো মর্মান্তিকভাবে। প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করার জেরে ২৪ বছর বয়সি এক তরুণীকে ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। হরিয়ানার যমুনানগরে ঘটা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল ঘটনার দিন? পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত সজন নামের ওই যুবক বুধবার সন্ধ্যায় হঠাৎই ওই মহিলার বাড়িতে চড়াও হয়। বিপদ বুঝতে পেরে ২৪ বছর বয়সি ওই যুবতী প্রাণ বাঁচাতে ঘর থেকে বেরিয়ে এক প্রতিবেশীর বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন। কিন্তু ঘাতক যুবক পিছু ধাওয়া করে সেই বাড়িতেও ঢুকে পড়ে। এরপর প্রতিবেশীর ঘরের ভেতরেই তাঁকে পাঁচ থেকে ছয়বার ছুরি দিয়ে উপর্যুপরি কোপানো হয়। এর মধ্যে ঘাড়ে লাগা আঘাতটি ছিল মারাত্মক। ঘটনার সময় মহিলার নয় মাসের শিশুকন্যা, চার বছরের ছেলে এবং দেওর ঘরেই উপস্থিত ছিলেন। দেওরের অভিযোগ, অভিযুক্ত তাদেরও ছুরি দেখিয়ে ভয় দেখায়। এরপর রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা ওই তরুণীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুরনো বিবাদ ও আইনি লড়াই: পরিবারের দাবি, ওই যুবতী এবং অভিযুক্ত সজনের পরিবারের মধ্যে বিগত দেড় বছর ধরে বিরোধ চলছিল। যুবতী অতীতে ওই যুবকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করেছিলেন। যদিও পরবর্তীতে উভয়পক্ষের মধ্যে কিছুটা সমঝোতার কথা শোনা গেলেও রেষারেষি কাটেনি। মাস পাঁচেক আগে মহিলার স্বামীকে মারধরের অভিযোগও ওঠে ওই যুবকের বিরুদ্ধে, যার জেরে তার জেলও হয়েছিল। সেই আক্রোশ থেকেই এই পরিকল্পিত খুন কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পুলিশের তদন্ত: খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সিটি জগাধরি থানার পুলিশ। ডিএসপি রাজীব মিগলানি এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বীরেন্দ্র সিংয়ের নেতৃত্বে ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল থেকে সমস্ত তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত সজন ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে এবং তাকে ধরতে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।