মোদীর পর এবার সোজা শাহের বাড়ি! বিমানবন্দরে হামলার মুখে পড়ে কেন নিরাপত্তার দরবার সৌগত রায়ের?

কলকাতা বিমানবন্দরের বাইরে তীব্র বিক্ষোভ, গাড়ি ঘিরে ‘চোর চোর’ স্লোগান এবং সরাসরি আক্রমণের মুখে পড়ে এবার নিরাপত্তার দাবিতে সোজা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের দ্বারস্থ হলেন প্রবীণ তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সৌগত রায়।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে দিল্লিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবনে গিয়ে নিজের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার আর্জি জানান দমদমের সাংসদ। যদিও ব্যস্ততার কারণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি তাঁর সাক্ষাৎ সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।
ঠিক কী ঘটেছিল কলকাতা বিমানবন্দরে?
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৮ অগাস্ট। কলকাতা বিমানবন্দর অ্যাডভাইজরি কমিটির সভাপতি হিসেবে সেখানকার ডিরেক্টরের কার্যালয়ে একটি পূর্বনির্ধারিত সরকারি বৈঠকে যোগ দিতে যান সৌগত রায়। অভিযোগ, বিমানবন্দর চত্বরে তাঁর গাড়ি পৌঁছতেই একদল উত্তেজিত জনতা কালো পতাকা হাতে নিয়ে গাড়ি ঘিরে ধরে। শুরু হয় ‘গো ব্যাক’ ও ‘চোর চোর’ স্লোগান। এমনকী তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ধাক্কাধাক্কি ও জুতো মারার মতো অভিযোগও ওঠে।
প্রশাসনের দরজায় কড়া নাড়লেও মিলেনি জবাব:
এই নজিরবিহীন ও চরম অপ্রীতিকর ঘটনার পরই নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় পুলিশ, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী এবং খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি পাঠান প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ। তবে সৌগত বাবু জানান, প্রধানমন্ত্রী ছাড়া বাকিদের থেকে চিঠির কোনো প্রাপ্তিস্বীকার বা স্পষ্ট জবাব পাননি তিনি। বাধ্য হয়েই এবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে পদক্ষেপ নিতে আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক চাপানউতোর চড়মে:
ঘটনার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন প্রবীণ সাংসদ। তিনি বলেন, “সরকারি কাজে এসে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার মুখে পড়তে হবে, ভাবতেও পারিনি। এটি চূড়ান্ত লজ্জার ব্যাপার। এর পেছনে বিজেপির হাত রয়েছে।”
তবে তৃণমূলের এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। দমদমের বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এই আক্রমণের সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক নেই; সাধারণ মানুষ ও নাগরিকেরা সাংসদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েই তাঁদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
বিমানবন্দর চত্বরে একজন প্রবীণ সাংসদের নিরাপত্তার এই চরম গাফিলতি এবং পরবর্তী ক্ষেত্রে অমিত শাহের দরবারে তাঁর দরবার— রাজ্য তথা জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।