চিনির পর কি এবার চায়ের কাপেও ছ্যাঁকা? হু হু করে কমছে উৎপাদন, চরম আশঙ্কা

বাজারে চিনির দাম বাড়ার পর থেকেই আমজনতার মনে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল, তবে কি এ বার চায়ের দামও বাড়তে চলেছে? সেই আশঙ্কাকেই সত্যি করে এবার চা উৎপাদন নিয়ে বড়সড় উদ্বেগের খবর সামনে এল। গত জুলাই মাসে ভারতে চা উৎপাদন এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে গিয়েছে। গত বছর যেখানে জুলাই মাসে দেশে মোট ১৮২ মিলিয়ন কিলোগ্রাম চা উৎপাদিত হয়েছিল, চলতি বছরের জুলাইয়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৬৪ মিলিয়ন কিলোগ্রামে। দেশের প্রধান চা উৎপাদনকারী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে চলা ভারী বৃষ্টি এবং প্লাবনের জেরে এই বিপুল ঘাটতি দেখা দিয়েছে। যদিও এর মধ্যেও স্বস্তির খবর যে, দক্ষিণ ভারতে চা উৎপাদন কিছুটা বেড়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে ভারী বৃষ্টির জেরে চা উৎপাদনে ধস

বাংলায় চা উৎপাদন হ্রাসের প্রধান কারণ অবিরাম বৃষ্টি ও জলমগ্ন পরিবেশ। এর জেরে রাজ্যে উৎপাদন ১৪ শতাংশ কমে নেমে এসেছে ৪৩.৮৭ মিলিয়ন কিলোগ্রামে, যা গত বছর জুলাইয়ে ছিল ৫০.৯৬ মিলিয়ন কিলোগ্রাম। মূলত পাহাড় এবং ডুয়ার্স সহ উত্তরবঙ্গেই রাজ্যের চা চাষের সিংহভাগ হয়ে থাকে। চলতি বছরের জুলাইয়ে ডুয়ার্সে চা উৎপাদন কমে হয়েছে ২৪.৮৩ মিলিয়ন কিলোগ্রাম, যা গত বছর ছিল ২৮.৫১ মিলিয়ন কিলোগ্রাম। পাশাপাশি, তরাই অঞ্চলেও চা উৎপাদন ১৫ শতাংশ কমে জুলাই মাসে হয়েছে ১৮.২৩ মিলিয়ন কিলোগ্রাম (গত বছর ছিল ২১.৫০ মিলিয়ন কিলো)। বিশ্বখ্যাত দার্জিলিং চা উৎপাদনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে; গত বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ কমে এ বছর জুলাইয়ে মাত্র ০.৮১ মিলিয়ন কিলো চা উৎপাদিত হয়েছে।

অসমেও ১৩ শতাংশ কমল চা উৎপাদন

ভারতবর্ষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চা উৎপাদিত হয় অসমে। কিন্তু প্রকৃতির খামখেয়ালিপনায় সেখানেও উৎপাদন ১৩ শতাংশ কমে ৯১.০৮ মিলিয়ন কিলোগ্রামে এসে ঠেকেছে, যা গত বছর একই সময়ে ছিল ১০৫ মিলিয়ন কিলো। জুলাই মাসে অসমের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে অতিভারী বৃষ্টির কারণে বিশাল এলাকা জলের তলায় চলে যায়, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে চা পাতার তোলার কাজে। অসম ভ্যালিতে ১২.৭ শতাংশ এবং কাছার জেলায় গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ কম চা উৎপাদিত হয়েছে।

কোন চায়ের উৎপাদন কেমন?

জুলাই মাসে হওয়া মোট উৎপাদনের সবচেয়ে বড় অংশ জুড়ে রয়েছে CTC চা, যার পরিমাণ ১৪৩.১০ মিলিয়ন কিলোগ্রাম। মূলত দুধ চা তৈরিতে এবং গাঢ় লিকারের জন্য এই চায়ের চাহিদা ভারতে সবচেয়ে বেশি। এছাড়া অসমের অর্থোডক্স চা ১৮.৭৬ মিলিয়ন কিলোগ্রাম এবং গ্রিন টি ২.৪৭ মিলিয়ন কিলোগ্রাম উৎপাদিত হয়েছে।

আসন্ন দিনে কি দাম বাড়বে?

জুলাই মাসে চা উৎপাদনে এই বিপুল ঘাটতির জেরে বাজারে এর দাম বাড়ার জোরালো আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের খবর মেলেনি। তবে ইতিমধ্যেই বাজারে চিনির দাম বৃদ্ধির কারণে বহু চায়ের দোকানে প্রতি কাপ বা ভাঁড়ের দাম বাড়ানো হয়েছে। এর ওপর উৎপাদন কমলে আগামী দিনে সাধারণ মানুষের পকেটে যে চাপ বাড়বে, তা নিয়ে যথেষ্ট চিন্তিত চা শিল্প মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *