ইংল্যান্ড সিরিজের মাঝেই পাকিস্তান ক্রিকেটে ভূমিকম্প! কোচ থেকে শুরু করে ৭ খেলোয়াড় বহিষ্কার, আসল রহস্য ফাঁস!

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে চলমান টেস্ট সিরিজের মাঝপথেই পাকিস্তান ক্রিকেট দলে ঘটে গেল এক অভূতপূর্ব ও নাটকীয় পটপরিবর্তন। যে দলটিকে বেছে নিয়ে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পাঠানো হয়েছিল, তাদের মধ্য থেকে প্রায় অর্ধেক খেলোয়াড়কে আকস্মিকভাবে মাঝপথেই দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, একরাতের মধ্যে দলটির সাপোর্ট স্টাফদের সম্পূর্ণ বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। টেস্ট দলের প্রধান কোচ থেকে শুরু করে বোলিং কোচ—সককেই একঝটকায় বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রথমে এই ব্যাপক রদবদলের কারণ হিসেবে লর্ডস টেস্টের লজ্জাজনক পরাজয়কে দায়ী করা হলেও, পর্দার আলের আসল সত্যটি সামনে আসতেই তৈরি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য।
পাক ক্রিকেটে এইল ওলটপালটের মাস্টারমাইন্ড কে?
সিরিজের মাঝপথে পাকিস্তান দলে এই আকস্মিক রদবদল নিয়ে যখন চারদিকে নানা গুঞ্জন চলছে, ঠিক তখনই এই ঘটনার নেপথ্য নায়কের মুখ উন্মোচন হয়েছে। পাকিস্তানের হাই পারফরম্যান্স সেন্টারের ডিরেক্টর তথা সাবেক ক্রিকেটার আকিব জাভেদ এক সাক্ষাৎকারে নিজেই এই রদবদলের সম্পূর্ণ দায় নিজের কাঁধে নিয়েছেন।
অধিনায়ক ও ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে ক্ষোভ
হঠাৎ কেন এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নিলেন আকিব জাভেদ? এর উত্তর লুকিয়ে রয়েছে তাঁর চরম অসন্তোষের মধ্যে। তাঁর দাবি, দলের প্লেয়িং ইলেভেনে পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছিল না। তিনি ও অন্যান্য কর্তারা বারবার অধিনায়ক ও টিম ম্যানেজমেন্টকে বার্তা পাঠিয়েছিলেন যে নির্দিষ্ট কিছু খেলোয়াড়কে দল থেকে বাদ দেওয়া উচিত। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে যে, তাঁদের সেই নির্দেশ বা পরামর্শ পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়। আর সেই কারণেই বাধ্য হয়ে এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়েছে বলে সাফ জানিয়েছেন আকিব।
লর্ডসের হার নয়, নেপথ্যে আমলাতান্ত্রিক অহংকার!
গোটা বিশ্ব যেখানে মনে করছিল লর্ডস টেস্টে শোচনীয় পরাজয়ের ফলেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে, সেখানে আকিব জাভেদের এই স্বীকারোক্তি সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। আক্ষরিক অর্থেই কোচের কথা অমান্য করার শাস্তি হিসেবে ৭ জন তারকা ক্রিকেটারকে ব্যাগ গুছিয়ে সোজা ঘরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রধান কোচ ও বোলিং কোচের চাকরি কেড়ে নেওয়া হয়েছে। সিরিজ চলাকালীন দলের অন্দরের এই চরম বিশৃঙ্খলা আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের ভাবমূর্তিকে আবারও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে, তবে দেশের ক্রিকেট বোর্ডের অন্দরের ক্ষমতার লড়াই যে আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে, এই ঘটনা তারই স্পষ্ট প্রমাণ।