মন্দিরে ঢুকলেই পকেট থেকে উধাও হবে মোবাইল! ৫২টি বড় মন্দিরে স্মার্টফোন নিয়ে কড়া নিষেধাজ্ঞা, চালু ৫ টাকার ফি

মন্দিরের অন্দরে ভক্তদের রিল বানানো, ছবি তোলা এবং ভিডিয়ো রেকর্ডিংয়ের প্রবণতা ঠেকাতে এবার অত্যন্ত কড়া পদক্ষেপ করল সরকার। মাদ্রাজ হাইকোর্টের নির্দেশকে মান্যতা দিয়ে তামিলনাড়ুর ৫২টি বড় মন্দিরে স্মার্টফোন নিয়ে প্রবেশ ও তার ব্যবহারের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) থেকে রাজ্যের প্রধান মন্দিরগুলিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নতুন নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে।

ফোন জমা দেওয়ার নতুন ব্যবস্থা ও টোকেন পদ্ধতি
নতুন এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে যে সমস্ত ভক্তরা স্মার্টফোন নিয়ে মন্দিরে আসবেন, তাঁদের প্রবেশদ্বারে তৈরি নির্দিষ্ট কাউন্টারে ফোন জমা দিতে হবে। এর বিনিময়ে ভক্তদের একটি করে টোকেন বা স্লিপ দেওয়া হবে, যা ফোন ফেরত নেওয়ার সময় জমা দিতে হবে। তবে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে জানানো হয়েছে যে, যাঁদের কাছে ক্যামেরা ছাড়া সাধারণ বা বেসিক মোবাইল ফোন রয়েছে, তাঁরা তা ভেতরে নিয়ে যেতে পারবেন।

কাউন্টারগুলিতে ফোন জমা রাখার জন্য নির্দিষ্ট কম্পিউটার অপারেটর ও কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। যেমন— কাঞ্চীপুরের বিখ্যাত দেবরাজস্বামী-অ্যাথি বরদার মন্দিরে এই নিয়ম চালুর পর থেকেই ফোন জমা নেওয়ার জন্য আলাদা কাউন্টার ও ডিজিটাল এন্ট্রি সিস্টেম চালু করা হয়েছে। এছাড়া মন্দিরের পার্কিং ও প্রধান গেটগুলিতে একাধিক ভাষায় বড় বড় সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে যাতে দর্শনার্থীরা আগে থেকেই সতর্ক হতে পারেন।

কেন এই কড়া সিদ্ধান্ত নিল সরকার?
হিন্দু রিলিজিয়াস অ্যান্ড চ্যারিটেবল এনডোমেন্ট (HR&CE)-এর মন্ত্রী পি কে শেখর বাবু জানিয়েছেন, মন্দির চত্বরে অননুমোদিত ফটোগ্রাফি এবং ভিডিয়ো রেকর্ডিংয়ের কারণে মন্দিরের শান্ত ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। অনেক সময় ভিভিআইপি বা সাধারণ ভক্তরা পুজোর আচার-অনুষ্ঠানের মাঝেই রিল বা ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, যা অন্য সাধারণ ভক্তদের উপাসনায় বিঘ্ন ঘটায়। এই সমস্ত বিষয় মাথায় রেখেই প্রায় চার বছর আগের অর্থাৎ ২০২২ সালের ২ ডিসেম্বর দেওয়া মাদ্রাজ হাইকোর্টের মাদুরাই বেঞ্চের নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে।

৫ টাকা ফি ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
এদিকে নতুন এই নিয়ম চালুর পর থেকেই মন্দির চত্বরে কিছুটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। মন্দিরের নিরাপত্তা কর্মীদের একাংশের মতে, জুতোর মতো জিনিস হারিয়ে গেলে তাও খোঁজা যায়, কিন্তু লাখ টাকার দামী স্মার্টফোন জমা নেওয়া এবং তার সুরক্ষার দায়িত্ব নেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও চাপের কাজ। অন্যদিকে, ফোন প্রতি ৫ টাকা জমা নেওয়ার ফি প্রসঙ্গে ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন কিছু স্থানীয় ভক্ত। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে, এই ৫ টাকা কোনও ব্যবসার জন্য নয়, বরং ফোন রাখার কাউন্টার পরিচালনা, কর্মী ও লকার রক্ষণাবেক্ষণের খরচ মেটানোর জন্যই এই ন্যূনতম ফি ধার্য করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *