মাত্র ১০ টাকায় প্রিমিয়াম আইসক্রিম! বাজারে আসতেই হুড়মুড়িয়ে দাম কমল কোয়ালিটি ওয়ালস-এর, কেঁপে উঠল ডেইরি মার্কেট?

টেলিকম সেক্টরে জিও-র হাত ধরে বিপ্লব ঘটানোর পর এবার সরাসরি সাধারণ মানুষের ঘরের ফ্রিজে জায়গা করে নিতে আসরে নামল রিল্যায়ান্স। বাজার কাঁপাতে ফের একবার অত্যন্ত আক্রমণাত্মক রণকৌশল নিয়ে হাজির হলেন মুকেশ আম্বানি। রিল্যায়ান্স কনজ্যুমার প্রোডাক্টস লিমিটেড (RCPL) এবার আইসক্রিম বাজারে ‘বম্বের ক্রিমারি’ (Bombay Creamery) ব্র্যান্ড নিয়ে দুর্দান্ত এন্ট্রি নিল। আর এই এন্ট্রি নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাজার কাঁপানোর মতো যে চমকটি সামনে এসেছে, তা হলো এর জলের দর দাম!

১০ টাকায় আইসক্রিম, অর্ধেক হয়ে গেল বাজার দর!
কোম্পানির তরফে জানানো হয়েছে, কাপ, কোন থেকে শুরু করে স্টিক—সমস্ত ধরনের আইসক্রিমের প্রারম্ভিক দাম রাখা হয়েছে মাত্র ১০ টাকা! বর্তমানে এই প্রোডাক্টটি পশ্চিম ভারতে লঞ্চ করা হলেও খুব শীঘ্রই তা গোটা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার বিরাট পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমান বাজারে জেপ্টো (Zepto), সুইগি ইনস্টামার্ট (Swiggy Instamart) বা ব্লিংকিট (Blinkit)-এর মতো কুইক কমার্স প্ল্যাটফর্মে সাধারণ আইসক্রিম বা কুলফিগুলির দাম সাধারণত কম করে ২০ টাকা থেকে শুরু হয়। কিন্তু আম্বানি সেই এন্ট্রি-লেভেল দাম সোজা অর্ধেক করে মাত্র ১০ টাকায় নামিয়ে আনলেন। আর তাতেই ঘুম উড়েছে কোয়ালিটি ওয়ালস (Kwality Walls) বা আমুলের মতো জায়ান্ট ব্র্যান্ডগুলির।

শেয়ার বাজারে পতন ও আমূল ধাক্কা
রিল্যায়ান্সের এই আইসক্রিম বাজারে আসার খবর চাউর হতেই তার মারাত্মক প্রভাব পড়েছে শেয়ার বাজারে। খবর প্রকাশ্যে আসতেই বিএসই (BSE)-তে কোয়ালিটি ওয়ালস-এর শেয়ার সোজা ৩ শতাংশ পর্যন্ত খসে পড়ে ৪৩ টাকায় এসে ঠেকেছে। এটি ছিল টানা সপ্তম কার্যদিবস, যে দিন এই শেয়ারে পতন দেখা গেল। সব মিলিয়ে এই ধাক্কায় তাদের মোট ক্ষতির পরিমাণ ছাড়িয়ে গেছে ১১ শতাংশ!

ক্যাফা কোলার পুরনো ফর্মুলায় বাজিমাত?
বিশ্লেষকদের মতে, এটি সম্পূর্ণভাবে রিল্যায়ান্সের সেই পরিচিত ‘প্রাইস ওয়ার’ বা সুলভ মূল্যের কিলার স্ট্র্যাটেজি। এর আগে ঠিক একইভাবে ক্যাফা কোলা (Campa Cola)-কে মাত্র ১০ টাকায় (২০০ মিলিলিটার বোতল) রিল্যাঞ্চ করে সফট ড্রিংকের বাজারে ঝড় তুলেছিল রিল্যায়ান্স। পুরোন কোম্পানিগুলোকে বাধ্য করেছিল তাদের স্ট্র্যাটেজি বদলাতে। সেই ফর্মুলায় সফল হয়েই এবার আইসক্রিম বাজারে রাজ করতে নামছে তারা। ক্যাফার সাফল্যের জেরে ২০২৬ অর্থবর্ষেই যার গ্রস সেল ৪,৭০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

গুণগত মানে আপস নয়, মত বিশেষজ্ঞদের
আইসক্রিম ব্যবসার বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পুরোপুরি তৈরি আরসিপিএল। সংস্থার ডিরেক্টর টি. কৃষ্ণকুমার স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, দাম কম হলেও কোয়ালিটির সঙ্গে বিন্দুমাত্র আপস করা হবে না। সম্পূর্ণ খাঁটি ডেইরি ক্রিম দিয়েই তৈরি হচ্ছে ‘বম্বের ক্রিমারি’। ভ্যানিলা, চকোলেটের পাশাপাশি সল্টেড ক্যারামেল, মাচা, তিরমিসুর মতো ট্রেন্ডি ফ্লেভারও বাজারে নিয়ে আসা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৫ শতাংশ চক্রবৃদ্ধি হারে (CAGR) দ্রুত বর্ধনশীল ভারতের এই ১৬.১০ বিলিয়ন ডলারের আইসক্রিম বাজারে ছোট শহর ও গ্রামাঞ্চলেও নিজের শক্তিশালী ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কের জেরে আধিপত্য বিস্তার করতে চাইছে রিল্যায়ান্স। ডিআর চোকসি ফিনসার্ভ-এর এমডি দেবেন চোকসির কথায়, এটি রিল্যায়ান্সের একটি সুদূর প্রসারী ‘লং-গেম’ কৌশল। যদি এই ফর্মুলায় তারা সফল হয়, তবে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য পুরনো ব্র্যান্ডগুলোকে রীতিমতো ঘাম ঝরাতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *