“ধ্বংসস্তূপের নিচে ৬০ ঘণ্টা আটকে!”-বাড়ি ফিরেই বাবাকে কি প্রশ্ন করলো নাবালিকা?

নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানের গ্রাস থেকে অলৌকিকভাবে প্রাণ ফিরে পেল এক নাবালিকা। পাহাড়ি ঢলের তোড়ে ভেসে গিয়ে একটানা প্রায় ৬০ ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার পর মনীষা নামের ওই কিশোরীকে জীবিত উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারী দল। দীর্ঘ নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে সুস্থ হয়ে মেয়ে বাবা-মায়ের কোলে ফিরে আসলেও, তার একটি মর্মস্পর্শী প্রশ্ন নাড়া দিয়েছে সকলকে।

সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মনীষার মা জানান, বিপর্যয়ের দিন সকালে প্রাতরাশ সেরে তাঁরা যখন মাঠে কাজ করতে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই আচমকা হড়পা বান এসে মুহূর্তে তাঁদের বাড়িটি ভাসিয়ে নিয়ে যায়। জলের তোড়ে বেশ কিছুটা দূরে ভেসে গিয়ে একটি বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে যায় মনীষা। তবে কাকতালীয়ভাবে সেই চাপা পড়া অংশে সামান্য হাওয়া চলাচলের ব্যবস্থা থাকায় প্রাণে বেঁচে যায় সে।

উদ্ধারকাজের সময় ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে ক্ষীণ কান্নার আওয়াজ শুনতে পান উদ্ধারকারীরা। এরপর দ্রুত কংক্রিটের স্তূপ সরিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়। গুরুতর আহত ও অসুস্থ অবস্থায় প্রথমে তাকে স্থানীয় একটি মেডিক্যাল ক্যাম্পে এবং পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় কাঠমান্ডুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হলে তাকে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

মেয়ের মুখমণ্ডলে একাধিক গভীর আঘাত ও রক্তের দাগ থাকায় প্রথমে তাকে প্রায় চিনতেই পারেননি বাবা-মা। সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আনন্দ এবং সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। নেপালের এই ভয়াল বিপর্যয়ের মাঝেও মনীষার ফিরে আসা এক প্রকার অলৌকিক ঘটনা বলেই মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *