‘সাই বাবা’ খ্যাত অভিনেতা সুধীর দলভির পাশে বলিউডের তিন সুপারস্টার! হাসপাতালে লক্ষ লক্ষ টাকার বিল মেটালেন কারা?

টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের দুনিয়ায় ‘শিরডি কে সাই বাবা’ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য সর্বাধিক পরিচিত প্রবীণ অভিনেতা সুধীর দলভিকে নিয়ে উদ্বেগের অবসান ঘটিয়ে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে বলিউড। গত বছরের অক্টোবরে ‘সেপসিসজনিত প্রাণঘাতী জটিলতা’র কারণে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল অভিনেতাকে। দীর্ঘ চিকিৎসার কারণে ক্রমবর্ধমান খরচ পরিবারের সদস্যদের চরম উদ্বেগের মুখে ফেলে দিয়েছিল। তবে দুর্দিনে প্রবীণ এই শিল্পীর চিকিৎসার্থে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন বলিউডের প্রথম সারির একাধিক তারকা।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতার স্ত্রী সুহাস দলভি জানিয়েছেন, বর্তমানে সুধীর দলভি বাড়ি ফিরেছেন। তবে এখনও হাঁটার জন্য তাঁকে ‘ওয়াকার’ ব্যবহার করতে হয় এবং তাঁর মানসিক অবস্থা কিছুটা অসংলগ্ন। হাসপাতালের সেই ব্যয়বহুল ও ভয়ের পরিবেশ থেকে স্বামীকে বাড়ি ফিরিয়ে আনতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তিনি।

চিকিৎসার আর্থিক সংকটের দিনে বলিউড তারকাদের এগিয়ে আসা প্রসঙ্গে সুহাস বলেন, হাসপাতালের বিল মেটাতে যখন তাঁরা হিমশিম খাচ্ছিলেন, সেই খবর ছড়াতেই অনেকেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। কার্তিক আরিয়ান, রণবীর কাপুর ও অক্ষয় কুমার সবার আগে সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছিলেন। এর পাশাপাশি সিনে ইন্ডাস্ট্রি এবং তাঁর স্বামীর ‘সাই বাবা’ চরিত্রের অগণিত ভক্তরাও পাশে দাঁড়িয়েছেন। চলচ্চিত্র সমিতি থেকে প্রতি মাসে যে আর্থিক সহায়তা আসত, তা অন্য কোনো অভাবী মানুষকে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত বছর অক্টোবরে লীলাবতী হাসপাতালে ভর্তির পর সংক্রমণের কারণে অভিনেতার অস্থিসন্ধিগুলি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নাড়ানোর ক্ষমতা কমে যায়। তাঁকে দীর্ঘ সময় আইসিইউ-তে রাখতে হয়। চিকিৎসার পেছনে পরিবারকে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা খরচ করতে হয়েছিল এবং তা ১৫ লক্ষ ছাড়িয়ে যেতে পারত। পরবর্তীতে ‘শ্রী সাইবাবা সংস্থান ট্রাস্ট’-এর পক্ষ থেকেও অভিনেতার চিকিৎসায় ১১ লক্ষ টাকার অনুদান দেওয়া হয়। রামানন্দ সাগরের ‘রামায়ণ’-এ গুরু বশিষ্ঠের চরিত্র কিংবা ‘শিরডি কে সাই বাবা’-র মতো অসামান্য অভিনয়ে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে দর্শকদের মন জয় করে চলা এই প্রবীণ অভিনেতা এখন চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *