দান বা সাহায্য নয়, সরাসরি ক্ষতিপূরণ চাই! জলবায়ু বিপর্যয় কাটাতে ভারত, চিন ও আমেরিকার দিকে আঙুল তুলল নেপাল

প্রতিবেশী দেশের তীব্র সংকটজনক পরিস্থিতিতে বায়ুসেনার বিমানে দফায় দফায় সাড়ে ৪৭ টন ত্রাণ ও জরুরি সামগ্রী পাঠিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ভারত। কিন্তু এর মাঝেই আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক বড় মোড় এনে দিল নেপাল। বিপর্যয়ের ত্রাণের মারকাটার বাইরে বেরিয়ে দেশটির বিদেশমন্ত্রীর সাফ দাবি—এই বিপত্তি কোনো আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী জলবায়ু পরিবর্তনের ফল। তাই শুধু অনুদান বা সাহায্য নয়, গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী প্রধান দেশগুলির কাছে সরাসরি আইনি ও নৈতিক ক্ষতিপূরণ দাবি করছে কাঠমান্ডু। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল স্পষ্ট জানিয়েছেন, জলবায়ু সংকট তৈরিতে নেপালের ভূমিকা কার্যত শূন্যের কোঠায় হলেও এর ভয়াবহ খেসারত দিতে হচ্ছে পাহাড়ি এই দেশটিকে। এতদিন আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর জোর দেওয়া হলেও, এখন তাদের কূটনৈতিক অবস্থান বদলে ‘ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ’-এর নীতি নেওয়া হচ্ছে। তাঁর দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা, এটি কোনো দয়া বা দাতব্য নয়, এটি বড় দেশগুলির স্পষ্ট আইনি ও নৈতিক দায়বদ্ধতা। বিশেষ করে চিন, আমেরিকা এবং ভারতের মতো শিল্পোন্নত দেশগুলি সর্বাধিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ করে থাকে, তাই এই দেশগুলোর কাছ থেকেই ক্ষতি আদায়ের কথা ভাবছে নেপাল। প্রকৃতির মারে বারবার বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ছোট্ট এই হিমালয় কন্যা দেশটি। পাহাড়, হিমবাহ ও নদীর ওপর নির্ভরশীল অর্থনীতি বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির জেরে মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। গলে যাওয়া হিমবাহের কারণে হড়পা বান ও ভয়াবহ ভূমিধসের কবলে পড়ছে জনজীবন। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলির তালিকায় চিন ও আমেরিকার পাশাপাশি ভারতও অন্যতম। এই পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রকৃত দায় স্বীকার করে বড় অর্থনীতির দেশগুলিকে কাঠমান্ডুর পাশে দাঁড়ানোর জোরালো বার্তা দিয়েছে নেপাল সরকার।