ইরানে ভয়াবহ মার্কিন হামলা, নিহত ৭! পালটা জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ধ্বংসলীলা চালাল তেহরান

ইরানে ফের ভয়াবহ সামরিক হামলা চালাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলায় সাতজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন অন্তত আটজন। ইরানের সরকারি সংবাদসংস্থা আইআরএনএ (IRNA)-র তথ্য অনুযায়ী, খুজেস্তান প্রদেশের তিনটি আলাদা স্থানে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এর পরই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সর্বাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, খুজেস্তান প্রদেশের নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক উপপ্রধান এই প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করেছেন। হামলার নিশানা মূলত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, মাইন পাতার ব্যবস্থা এবং যোগাযোগ কেন্দ্রগুলি ধ্বংস করা ছিল বলে জানিয়েছে আইআরআইবি (IRIB)। আহভাজ ও আগাজারি শহরের আশপাশেও জোরালো ক্ষেপণাস্ত্র পড়ার খবর মিলেছে।
এই রক্তক্ষয়ী হামলার পর চুপ করে বসে থাকেনি তেহরান। আইআরএনএ-র দাবি, এই মার্কিন আগ্রাসনের বদলা নিতে ইসলামিক রেভলিউশনি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর অ্যারোস্পেস ফোর্স জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ‘প্রিন্স হাসান বিমান ঘাঁটি’তে ভয়াবহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হানা চালিয়েছে। সেখানে মার্কিন ড্রোনগুলির হ্যাঙ্গারকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়, যার জেরে বেশ কয়েকটি ড্রোন ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি একাধিক পাইলট ও ফ্লাইট ক্রু সদস্যের মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সানায় অবস্থিত হুথি-নিয়ন্ত্রিত মন্ত্রক ইরানের ওপর এই হামলার তীব্র নিন্দা করে তেহরানের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রকের সাফ দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে এই অঞ্চলে উত্তেজনা তৈরি করছে। এর চরম পরিণতির জন্য ওয়াশিংটন এবং তাদের সহযোগীদেরই সমস্ত দায় নিতে হবে। পাশাপাশি, যেসব দেশ আমেরিকাকে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করার সুযোগ দিচ্ছে, তাদেরও ভবিষ্যতে চড়া মূল্য চোকাতে হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
পুরো পরিস্থিতির মাঝেই নিজের সোশ্যাল মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ বিস্ফোরক পোস্ট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালীর ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং ইরানের অর্থনীতি ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। তেহরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা তিনি করছেন না স্পষ্ট জানিয়ে ট্রাম্প লিখেছেন, “তারা কেবল অনিবার্য পরিণতির দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে।” একইসঙ্গে ইরানি জনসাধারণকে নিজেদের সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে ট্রাম্প প্রশ্ন তুলেছেন, “ইরানি জনগণ কখন জেগে উঠবে এবং লড়াই করবে?”