বাংলার জিভে জল আনা ল্যাংচাতেই ভেজাল? শক্তিগড়ের বিখ্যাত দোকানে হানা দিল খাদ্য দফতর!

খাবারে ভেজাল ঠেকাতে গোটা রাজ্যজুড়ে কোমর বেঁধে নেমেছে খাদ্য দফতর। মেদিনীপুর, আসানসোল, বাঁকুড়া থেকে পুরুলিয়া—বাদ যাচ্ছে না কোনো জেলাই। আর এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার পূর্ব বর্ধমানের বিখ্যাত শক্তিগড়ের ল্যাংচার দোকানে হানা দিলেন খাদ্য দফতরের আধিকারিকরা। যে ল্যাংচার সুনাম ও স্বাদ গোটা বাংলার মানুষের জানা, সেই ঐতিহ্যবাহী মিষ্টিতে আদতে কোনো ভেজাল মেশানো হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়।
মঙ্গলবার দুপুরভর শক্তিগড়ের একাধিক ল্যাংচার দোকান ও অন্যান্য খাদ্যাদি বিক্রয় কেন্দ্রে ঝটিকা তল্লাশি চালায় খাদ্য সুরক্ষা দফতর। এদিনের এই যৌথ দলে খাদ্য সুরক্ষা দফতর ও স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকদের পাশাপাশি পুলিশ, বিডিও এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। একাধিক গাড়িতে চেপে আধিকারিকরা যখন সোজা দোকানে দোকানে হাজির হন, তখন এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়।
সূত্রের খবর, সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে খাবারের দোকানে রঙের নামে কোনোভাবেই বিষ মেশানো যাবে না। পাশাপাশি এই অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে কিছু অসাধু পুলিশ বা সরকারি অফিসারও যুক্ত থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিন শক্তিগড়ের বেশ কয়েকটি ল্যাংচা ও মিষ্টির দোকান ছাড়াও হোটেল, ধাবা এবং রেস্তোরাঁতেও তল্লাশি চালানো হয়। মিষ্টি তৈরিতে ঠিক কী ধরনের রঙ ব্যবহার করা হচ্ছে, তার মান কেমন, কিংবা ছানা ও পনীরের গুণগত মান ঠিকঠাক রয়েছে কি না—সবকিছুই পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখেন আধিকারিকরা। এমনকি কোল্ড ড্রিংকস ও মশলাপাতিও পরীক্ষা করা হয়। খাবার প্রক্রিয়াকরণ ও তা পরিবেশনের নির্দিষ্ট নির্দেশিকাও ব্যবসায়ীদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়। অভিযানে কোনো মেয়াদোত্তীর্ণ সামগ্রী বা উপাদানে গরমিল ধরা পড়লে তা সঙ্গে সঙ্গে নষ্ট করে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন বেশ কিছু দোকানে তল্লাশি চললেও খুব বড় কোনো অনিয়ম বা কারচুপি ধরা পড়েনি। তবে কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসনিক নিয়ম বা গাইডলাইন ঠিকমতো না মানার বিষয়টি সামনে আসায়, সেগুলি দ্রুত সংশোধনের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন আধিকারিকরা। পাশাপাশি কিছু সামগ্রী ঘটনাস্থলেই নষ্ট করে ফেলা হয়েছে।