সিঙারাকে ইংরেজিতে কী বলে জানেন? বিশ্বজুড়ে পাকাপোক্ত জায়গা করে নেওয়া এই স্ন্যাক্সের অজানা ইতিহাস চমকে দেবে

বিকেল নামলেই এক কাপ গরম চায়ের সঙ্গে ধোঁয়া ওঠা গরম সিঙারা না হলে বাঙালির আড্ডাটা ঠিক জমে ওঠে না। এই খাস্তা পদটি নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। অনেকেই জানতে চান, সিঙারার নির্দিষ্ট কোনো ইংরেজি নাম বা অনুবাদ রয়েছে কি না। আসলে ইংরেজিতে এর আলাদা কোনো অনুবাদ নেই। খাবারটি কী ধরনের, তা বোঝাতে একে ‘ট্রায়াঙ্গুলার স্যাভরি পেস্ট্রি’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। তবে বিশ্বায়নের যুগে অক্সফোর্ড ডিকশনারি সরাসরি ‘সামোসা’ শব্দটিকে ইংরেজি অভিধানে স্থান দিয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক মেনু কার্ডে এটি এখন নিজের আসল নামেই পরিচিত।
খাবারটির জন্ম ইতিহাস নিয়েও কম রোমাঞ্চ নেই। আমাদের অত্যন্ত প্রিয় সিঙারার জন্ম কিন্তু ভারতে হয়নি। এর আদি উৎস মধ্য এশিয়ার পারস্য বা ইরানে। মধ্যযুগে ইরান ও মধ্য এশিয়ায় এটি ‘সাম্বোসা’ বা ‘সাম্বুশক’ নামে বেশ জনপ্রিয় ছিল। পরবর্তী সময়ে পর্যটক ও বণিকদের হাত ধরেই এটি ভারতীয় উপমহাদেশে পা রাখে। দশম শতাব্দীর পারস্যের ঐতিহাসিক নথিতে মাংসের পুর ভরা ত্রিভুজাকৃতির ‘সাম্বুসা’র পরিষ্কার উল্লেখ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে দিল্লি সুলতানি ও মুঘল আমলে এটি ভারতীয় রাজদরবারের অভিজাতদের পাতে জায়গা করে নেয় এবং কালক্রমে সাধারণ মানুষের ঘরে পৌঁছে যায়।
ভারতে আসার পর সিঙারার চরিত্রে বড় ধরনের বদল ঘটে। আমিষ রূপ ছেড়ে এটি হয়ে ওঠে নিরামিষ আলুর পুরে ঠাসা। বাঙালির হেঁশেলে প্রবেশ করে এটি ফুলকপি, বাদাম আর বিশেষ ভাজা মশলার ছোঁয়ায় অন্য মাত্রা পায়। একেক রাজ্যে এর স্বাদ ও বানানোর কৌশলে ভিন্নতা থাকলেও, আবেগের দিক থেকে সিঙারা আজও ভারতীয় স্ন্যাকসের অন্যতম সেরা আকর্ষণ।