পাকিস্তানে ১০০ বছরের পুরোনো হিন্দু মন্দির গুঁড়িয়ে তৈরি হচ্ছে মাদ্রাসা! বিশ্ব হিন্দু পরিষদের হুঙ্কারে তোলপাড় আন্তর্জাতিক মহল

পাকিস্তানে শতবর্ষ প্রাচীন একটি ঐতিহাসিক হিন্দু মন্দির ভেঙে ফেলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানাল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP)। ভিএইচপি-র জাতীয় মুখপাত্র সুরেন্দ্র জৈন অভিযোগ করেছেন যে, জিহাদিরা ওই নির্দিষ্ট স্থানে একটি মাদ্রাসা তৈরির উদ্দেশ্যেই মন্দিরটি সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দিয়েছে। তাঁর দাবি, ঠিক এর মাত্র দু’মাস আগেই দেড়শো বছরের পুরোনো একটি গুরুদ্বারও একইভাবে ভেঙে ফেলা হয়েছিল। পাকিস্তানে বর্তমানে হিন্দু ও শিখ সম্প্রদায়ের জীবন অত্যন্ত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে উল্লেখ করে সেখানকার অসংখ্য় মানুষের সম্মান ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মহলকে অবিলম্বে ইসলামাবাদের উপর কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির জোরালো আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

সংবাদসংস্থা ANI-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুরেন্দ্র জৈন বলেন, পাকিস্তান থেকে লাগাতার হিন্দু মহিলাদের অপহরণ, খুন এবং ধর্মীয় স্থানগুলির ওপর হামলার খবর আসছে। পাকিস্তান সরকারের চরম উদাসীনতা এবং এই ধরনের ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে তাদের প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে বলেও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তিনি। এই ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাস্তায় নেমে তীব্র বিক্ষোভ দেখিয়েছে রাষ্ট্রীয় বজরং দল। বিক্ষোভের অংশ হিসেবে পাকিস্তানের পতাকা এবং হাফিজ সইদ ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ছবিযুক্ত কুশপুতুল দাহ করা হয়। রাষ্ট্রীয় বজরং দলের নেতা রাকেশ বজরঙ্গি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, অবিলম্বে পাকিস্তানের উপর কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে ওই ঐতিহাসিক মন্দিরটি পুনর্নির্মাণের ব্যবস্থা করা হোক।

এদিকে, এই মন্দির ভাঙার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের গণমাধ্যম এবং স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে সম্পূর্ণ পরস্পরবিরোধী রিপোর্ট সামনে এসেছে। পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘ডন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২১ আগস্ট ঐতিহাসিক এই হিন্দু মন্দিরটি ভেঙে ফেলা হয়। সংখ্যালঘু অধিকাররক্ষা গোষ্ঠী পাকিস্তান মাসিহা মিল্লাত পার্টি (PMMP)-র চেয়ারম্যান আসলাম পারভেজ সহোত্রা অভিযোগ করেছেন যে, পার্শ্ববর্তী একটি সেমিনারি সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে এই কাঠামোটি ভেঙে এর ইট ও মূল্যবান ধাতব সামগ্রী লুট করা হয়েছে। এই ঘটনায় যুক্ত ব্যক্তি ও কর্তব্যে গাফিলতি করা আধিকারিকদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি জানিয়ে পাঞ্জাবের অতিরিক্ত স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে লিখিত আবেদনও জমা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ঘটনার দায় এড়াতে ইভাকুই ট্রাস্ট প্রপার্টি বোর্ড (ETPB) দাবি করেছে যে, সাম্প্রতিক ভারী বর্ষার কারণেই নাকি মন্দিরটির পুরোনো কাঠামো ভেঙে পড়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *