৫ সেপ্টেম্বর যন্তর মন্তরে বিরাট আন্দোলনের ডাক! সিজেপির জমায়েত রুখতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা খেলেন বিরোধীরা?

আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি (CJP)-র প্রস্তাবিত আন্দোলন রুখতে চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে যে মামলা দায়ের করা হয়েছিল, তাতে সরাসরি কোনো হস্তক্ষেপ করল না দেশের শীর্ষ আদালত। তবে আন্দোলন দমনের আর্জি খারিজ করার পাশাপাশি দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে আদালত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, প্রত্যেকেই যেন আইন মেনে ও শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন পরিচালনা করে। শুধু সিজেপি নয়, একই সঙ্গে পুলিশ ও প্রশাসনকেও কঠোরভাবে আইন মেনে চলার বার্তা দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে জনস্বার্থের নানা প্রতিশ্রুতি পূরণ না করার গুরুতর অভিযোগ তুলে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর দিল্লির যন্তর মন্তরে ফের বড়সড় প্রতিবাদের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। সিজেপির দাবি, এর আগে যন্তর-মন্তরের আন্দোলন প্রত্যাহারের সময় সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তাঁদের যে সমস্ত দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, নির্দিষ্ট সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও তা কার্যকর করা হয়নি। আর সেই কারণেই বাধ্য হয়ে শিক্ষক দিবসের পবিত্র দিনে ফের রাজপথে নেমে প্রতিবাদের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।

সোমবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও ভি মোহনাকে নিয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চ জানিয়ে দেয় যে, আদালত এই মুহূর্তে সিজেপির প্রস্তাবিত প্রতিবাদ মিছিল বা জমায়েতে হস্তক্ষেপ করতে ইচ্ছুক নয়। বেঞ্চের পরিষ্কার অভিমত, আইন-শৃঙ্খলার সার্বিক পরিস্থিতি সামলানো এবং তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব পুরোপুরি কেন্দ্র ও দিল্লি সরকারের ওপরই বর্তায়। সংশ্লিষ্ট সমস্ত পক্ষকে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে এবং কোনোভাবেই আইনি সীমানা লঙ্ঘন না করে নিজেদের কর্মসূচি পালন করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

এদিন শীর্ষ আদালতের বেঞ্চ মন্তব্য করে যে, তারা এমন কোনো আশঙ্কা দেখছে না যা থেকে এই প্রস্তাবিত জমায়েতকে ঘিরে দেশজুড়ে বিরাট কোনো অশান্তি বা বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। বিচারপতিরা অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, প্রত্যেকে আইন মেনে চলবে এবং আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকেই নিজেদের কাজ পরিচালনা করবে। সেই সঙ্গে একে অপরের মৌলিক অধিকারকেও পূর্ণ সম্মান দেবে।” আদালতের পক্ষ থেকে আরও সতর্ক করে বলা হয়েছে যে, যদি আগামী দিনে কোনো ধরনের উদ্বেগজনক বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবেই আদালত এই বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ করার কথা বিবেচনা করবে। ফলে শিক্ষক দিবসের দিন যন্তর মন্তরে সিজেপির আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক পারদ এখন থেকেই চড়তে শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *