ঝাড়খণ্ডে হু হু করে বাড়ছে রহস্যজনক রোগ! চোখ রাঙাচ্ছে এই মারাত্মক জ্বর, স্বাস্থ্য দফতরে হাই অ্যালার্ট

একদিকে যখন স্বাইন ফ্লুর থাবায় রাজ্যজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে, ঠিক তখনই রাজধানী রাঁচি ও তার আশেপাশের এলাকায় নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে লেপ্টোস্পায়রোसिस (Leptospirosis) বা সংক্ষেপে ‘চूহা জ্বর’ (Rat Fever)। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, গত দুই মাস অর্থাৎ জুলাই ও আগস্ট মাসের মধ্যে এই ভাইরাসবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ১৩০ জনেরও বেশি মানুষ। যদিও আক্রান্তদের বেশিরভাগই চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠছেন, তবুও যেভাবে এই রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে, তাতে চরম উদ্বেগে রয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগ।
কীভাবে ছড়ায় এই ভয়ংকর রোগ?
চিকিৎসকদের মতে, এটি একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ, যা মূলত লেপ্টোস্পাইরা নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে ছড়ায়। সংক্রামিত ইঁদুর এবং অন্যান্য পশুপাখির মলমূত্রের সংস্পর্শে আসা জল বা মাটি এই রোগের মূল উৎস। বর্ষার মরশুমে জলমগ্ন রাস্তাঘাটে হাঁটার সময় যদি কারোর পায়ে কোনো কাটাছেঁড়া বা খোলা ক্ষত থাকে, তবে সেই दूषित জলের সংস্পর্শে এসেই ব্যাকটেরিয়া সহজেই রক্তে প্রবেশ করতে পারে।
‘র্যাট ফিভার’-এর প্রধান লক্ষণগুলি কী কী?
শুরুতে এই রোগের লক্ষণ সাধারণ ভাইরাল জ্বরের মতোই মনে হতে পারে। তবে নিচের উপসর্গগুলি দেখা দিলে অবিলম্বে সতর্ক হওয়া জরুরি:
-
হঠাৎ করে প্রচণ্ড বেশি জ্বর এবং তীব্র মাথা ব্যথা।
-
কাঁপুনি দিয়ে ঠান্ডা লাগা এবং শরীরে মারাত্মক ব্যথা ও ক্লান্তি।
-
পেশিতে টান ধরা, বমি ভাব এবং চোখ লাল হয়ে যাওয়া।
-
রোগ বাড়াবাড়ি পর্যায়ে গেলে কিডনি এবং লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে, যার ফলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন পড়ে।
কীভাবে রক্ষা পাবেন?
এই সংক্রমণ থেকে বাঁচতে চিকিৎসকরা সাধারণ মানুষকে জলজमाव বা গंदे জলের संपर्क এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। যেসব এলাকায় জল জমে থাকে, সেখানে কাজ করার সময় অবশ্যই রবারের গ্লাভস এবং উঁচু গামবুট ব্যবহার করা উচিত। এছাড়া শরীরে কোনো ক্ষত থাকলে তা ভালোভাবে ঢেকে রাখা এবং ময়লা জলের সংস্পর্শে আসার পর সাবান ও পরিষ্কার জল দিয়ে ভালো করে হাত-পা ধুয়ে ফেলার কথা বলা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সামান্য সচেতনতা এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা করলেই এই মারণ রোগের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।