লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসে ৩০ কোটি টাকার বন্যা! খোদ সুপ্রিম কোর্টে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ককে নিয়ে চরম বিস্ফোরণ সলিসিটর জেনারেলের

ডেবরার চাকরি দুর্নীতি, শালবনী জমি কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে ক্যামাক স্ট্রিটকাণ্ড— একের পর এক অভিযোগে ইতিমধ্যেই শিরোনামে উঠে এসেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। এবার তাঁর আগাম জামিনের মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টে এমন কিছু বিস্ফোরক তথ্য সামনে এল, যা রাজ্য রাজনীতিতে চরম শোরগোল ফেলে দিয়েছে। দেশের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা শীর্ষ আদালতে দাবি করেছেন যে, তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় অ্যাকাউন্টসহ একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকার অবৈধ নগদ অর্থ জমা করেছিলেন সুমিত রায়। এমনকি সেই সুনির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকেই ৩০ কোটি টাকা সোজা স্থানান্তরিত হয়েছিল বিতর্কিত সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর অ্যাকাউন্টে।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে এই মামলার শুনানি চলাকালীন সলিসিটর জেনারেল সাফ জানান যে, এই সমস্ত লেনদেনের সপক্ষে তাঁদের হাতে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। অন্যদিকে, সুমিত রায়ের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন যে, তাঁর মক্কেল গত ১১ দিন ধরে একটানা জিজ্ঞাসাবাদে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছেন এবং বেআইনি জমির লেনদেন নিয়ে তাঁকে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রশ্নই করা হয়নি। তা সত্ত্বেও আর্থিক লেনদেনের মাত্রা ১০ লক্ষ টাকা দেখানো হলেও আসল দুর্নীতি তার থেকে অনেক গভীরে বলে দাবি করেছেন সলিসিটর জেনারেল।
অন্যদিকে, এই গোটা প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি ও সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ মামলায় তদন্তের গতিপ্রকৃতি এবং আদালতের আগের নির্দেশগুলি বাস্তবায়নে কেন গড়িমসি করা হয়েছে, সেই প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রীয় এজেন্সিদের ভর্ৎসনা করেন বিচারপতি। সুমিত রায়কে জিজ্ঞাসাবাদের সম্পূর্ণ রেকর্ড এবং নগদে টাকা জমা দেওয়ার অভিযোগের সপক্ষে সমস্ত প্রমাণ আগামী সোমবারের মধ্যে আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। আগামী সোমবার এই মামলার পরবর্তী শুনানিতে আরও বড় কোনো চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।