গণেশ চতুর্থীর আগেই চরম বিপত্তি! খাদের মতো রাস্তায় BMC-কে সোজা ৪৮ ঘণ্টার ডেডলাইন

মহারাষ্ট্রে শুরু হতে চলেছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বড় উৎসব—গণেশোৎসব। তবে আনন্দের এই মাহেন্দ্রক্ষণের আগেই মুম্বইয়ের বেহাল রাস্তাঘাট নিয়ে তীব্র ক্ষোভ দানা বেঁধেছে সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন গণেশ মণ্ডলের মধ্যে। ‘গড়ডামুক্ত’ বা খানাখন্দহীন রাস্তার সরকারি প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও শহরের বিভিন্ন সড়কে অগণিত খাদের সৃষ্টি হয়েছে, যা ভক্তদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই মারাত্মক আকার ধারণ করেছে যে, ক্ষুব্ধ জনগণ রাস্তায় নেমে অভিনব প্রতিবাদে সামিল হয়েছে।

খাদের মতো রাস্তায় গাছ লাগিয়ে অভিনব প্রতিবাদ

সাহার এয়ারপোর্ট রোডে ‘ওয়াচডগ ফাউন্ডেশন’-এর নেতৃত্বে স্থানীয় বাসিন্দারা একত্রিত হয়ে রাস্তার বিপজ্জনক গর্তগুলিতে গাছ ও ফুলের টব বা গামলা বসিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান। প্রতিবাদীদের স্পষ্ট বক্তব্য, সাধারণ মানুষকে যদি নিজেদের উদ্যোগে রাস্তার গর্তে গাছ লাগাতে হয়, তবে তা শহরের বেহাল নাগরিক পরিকাঠামোকেই বেআব্রু করে দেয়। শুধু তাই নয়, এই অভিনব বিক্ষোভে হিন্দু, মুসলিম, ক্যাথলিক ও শিখ—সহ সর্বধর্মের মানুষ একসঙ্গে শামিল হয়ে বিএমসি (BMC)-কে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রাস্তা না সারা হলে আন্দোলন আরও তীব্র করার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা ও প্রশাসনের উদাসীনতা

গণেশ মণ্ডলের আয়োজকদের মতে, বর্ষার জমা জলে রাস্তাঘাট একাকার হয়ে যাওয়ায় বড় বড় গর্তগুলি ঢাকা পড়ে থাকে। এর ফলে বিশালাকার প্রতিমা ও রথ নিয়ে আসার সময় হঠাৎ চাকা গর্তে বসে গিয়ে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। সম্প্রতি মুম্বইয়ের ভূলেশ্বর এলাকায় ২২ ফুট উঁচু গণেশ মূর্তি বহনকালে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় দু’জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল। সেই স্মৃতি উসকে দিয়েই এবার রাস্তাঘাট দ্রুত সারাইয়ের দাবি জোরাল হয়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতিমধ্যে বিএমসি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রধান রুটগুলি পরিদর্শন করে দ্রুত রাস্তা ঠিক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ৪৮ ঘণ্টার এই সময়সীমার মধ্যে প্রশাসনের ঘুম ভাঙে কি না এবং মুম্বইয়ের রাস্তাঘাট বাপ্পার বরণের আগে কতটা সুরক্ষিত হয়ে ওঠে।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *