“কেউ বলে বিপ্লবী…”-র সুনামেই কুপোকাৎ সব প্রতিদ্বন্দী! দর্শকদের পাগলা চাহিদায় হলের সংখ্যা বাড়াতে বাধ্য হলেন নির্মাতারা

দর্শকদের ভালোবাসায় বক্স অফিসে একের পর এক নতুন নজির গড়ে চলেছে পথিকৃৎ বসু পরিচালিত এবং জিৎ ফিল্মওয়ার্কস ও নন্দী মুভিজ প্রযোজিত ছবি ‘কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত’। বাজারে বড় বাজেটের হিন্দি ছবি ‘টক্সিক’ মুক্তির পরেও সুপারস্টার জিতের এই সিনেমার অপ্রতিরোধ্য গতি ও জনপ্রিয়তায় বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি। বরং দর্শকদের অতিরিক্ত চাহিদার কথা মাথায় রেখে প্রেক্ষাগৃহে ছবিটির শো-এর সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বাড়ানো হয়েছে। ফলস্বরূপ, প্রায় প্রতিটি শো-তেই দর্শকাসনে উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে।

মুক্তির পর থেকেই ছবিটির গল্প, নির্মাণের বড় ক্যানভাস, দুর্দান্ত অ্যাকশন সিকোয়েন্স এবং জিতের শক্তিশালী অভিনয় সমালোচক ও সাধারণ দর্শক—উভয় মহলেই ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। এই ছবিতে জিৎ বিভিন্ন মেকআপে, নানা বয়সের চরিত্রে এবং সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে ধরা দিয়েছেন, যা নতুন প্রজন্মের দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছে। ছবির মূল হাতিয়ার হলো এর সমসাময়িক প্রাসঙ্গিকতা। স্বাধীন ভারতে প্রশাসন ও সরকারি দুর্নীতির জাঁতাকলে দেশ কীভাবে বারবার ঝাঁঝরা হয়ে যাচ্ছে এবং তার বিরুদ্ধে কীভাবে রুখে দাঁড়ানো দরকার, সেই কথাই সাহসের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে এই সিনেমায়। রক্তের গরম করা সংলাপ এবং দক্ষিণী ধাঁচের অ্যাকশন একে একটি পূর্ণাঙ্গ কমার্সিয়াল হিট করে তুলেছে।

চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, যখনই কোনো বড় হিন্দি বা প্যান-ইন্ডিয়া ছবি প্রেক্ষাগৃহে আসে, তখন আঞ্চলিক ছবিগুলোর ব্যবসা মার খাওয়ার একটা প্রথাগত আশঙ্কা থাকে। কিন্তু ‘কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত’ সেই সমস্ত প্রচলিত ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে নিজস্ব শক্তিতে দর্শককে হলে টেনে আনছে। ইতিবাচক ‘ওয়ার্ড অফ মাউথ’ এবং দর্শকের প্রবল দাবির ফলেই শো বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নির্মাতারা। জিতের অভিনয় ও পথিকৃৎ বসুর নিখুঁত পরিচালনা প্রমাণ করে দিল যে ভালো কন্টেন্ট এবং শক্তিশালী গল্প থাকলে বড় কোনো রিলিজও বাংলা ছবির অদম্য যাত্রাকে রুখতে পারে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *