শেয়ারে বড় ধস আর নেতৃত্ব বদলের তোলপাড়! দেশের বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাংকের অন্দরে ঠিক কী চলছে?

 

দেশের বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাংক এইচডিএফসি-তে (HDFC Bank) এক বিরাট প্রশাসনিক পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে। বর্তমান ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও শশীধর জগদীশান আগামী ২৬ অক্টোবর তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পুনর্নিয়োগের জন্য আবেদন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রায় তিন দশকের দীর্ঘ সম্পর্ক ছিন্ন করে তাঁর এই আকস্মিক সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা ব্যাংকটির নেতৃত্ব হস্তান্তর প্রক্রিয়াকে হঠাৎ করেই অনেকটাই ত্বরান্বিত করেছে। বিগত কিছুদিন ধরে একাধিক বিতর্ক এবং বাজারে শেয়ারের দুর্বল পারফরম্যান্সের মতো জটিল পরিস্থিতির মাঝেই নতুন সিইও-কে এই বিশাল ব্যাংকের দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে।

ব্যাংক সূত্রে জানা গিয়েছে, ৬১ বছর বয়সি শশীধর জগদীশানকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ জানানো হলেও তিনি নিজের অবস্থানে অনড় থেকেছেন। ১৯৯৬ সালে ফিনান্স ম্যানেজার হিসেবে কেরিয়ার শুরু করা জগদীশান ২০২০ সালে আদিত্য পুরীর উত্তরসূরি হিসেবে শীর্ষপদে আসীন হয়েছিলেন। এইচডিএফসি লিমিটেডের সঙ্গে ব্যাংকের ঐতিহাসিক সংযুক্তিকরণ সফল করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা প্রশংসিত হলেও, নতুন উত্তরসূরিকে বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।

বিশেষ করে ব্যাংকের কর্পোরেট গভর্ন্যান্স বা পরিচালনা সংক্রান্ত বিষয়গুলি নতুন সিইও-র জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হতে চলেছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে চেয়ারম্যান অতনু চক্রবর্তীর আচমকা পদত্যাগ এবং মে মাসে মহারাষ্ট্র স্টেট রোড ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনকে ৪৫ কোটি টাকা প্রদান সংক্রান্ত বিতর্ক ব্যাংকটির ভাবমূর্তিতে কিছুটা হলেও প্রভাব ফেলেছে। যদিও ব্যাংক সমস্ত অন্যায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছে, তবুও আইনি ও অভ্যন্তরীণ নজরদারি সামলানো নতুন নেতার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।

এর পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করাও বড় চ্যালেঞ্জ। চলতি বছরে বৃহত্তর ব্যাংকিং সূচকের তুলনায় HDFC ব্যাংকের শেয়ারের দাম প্রায় ২৭ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে, যেখানে নিফটি ব্যাংক সূচক মাত্র ৩.৫ শতাংশ কমেছে। ২০২৩ সালের মেগাজুঝক বা একীভূতকরণের পর মার্জিন ও তারল্যের চাপ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মনে যে উদ্বেগ রয়েছে, নতুন নেতৃত্বকে তা সফলভাবে দূর করতে হবে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর কাইজাদ এম. ভারুচা এই পদের অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে এগিয়ে রয়েছেন, যাঁর ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

Samrat Das
  • Samrat Das

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *