এক ধাক্কায় বাতিল ১১টি মামলা! মহারাষ্ট্রে কড়া আইনি মারপ্যাঁচে আইপিএস তুকারাম মুন্ধে

খাদ্যে ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করতে গিয়ে বোম্বে হাইকোর্টের প্রবল ভর্ৎসনার মুখে পড়ল মহারাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA)। এফডিএ কমিশনার তুকারাম মুন্ধের নেতৃত্বে চলা লাগাতার অভিযানে লাইসেন্স বাতিল ও শোরুম সিল করার মতো একের পর এক কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে সম্প্রতি ১১টি পৃথক মামলায় এফডিএ-র এই অতি-উৎসাহী এবং কঠোর পদক্ষেপকে কার্যত খারিজ করে দিয়েছে আদালত। আদালতের স্পষ্ট মন্তব্য, আধিকারিকরা আইন বা আদালতের নির্দেশ কিছুই বুঝতে পারছেন না এবং নিয়ম না জেনেই যত্রতত্র কোপ বসাচ্ছেন।

গত মে মাসে এফডিএ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরেই তুকারাম মুন্ধে রাজ্যজুড়ে ঝটিকা অভিযান শুরু করেছিলেন। ২৫ মে থেকে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে প্রায় ৩,১৩৭টি খাদ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে ১৬৫টি লাইসেন্স স্থগিত করা হয় এবং প্রায় ৫৫.৭২ কোটি টাকার মজুত খাদ্যদ্রব্য বাজেট করা হয়। কিন্তু এরপরেই হোটেল, রেস্তোরাঁ ও ডেইরি মালিকরা আদালতের দ্বারস্থ হতে শুরু করেন।

সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি ঘটে পুনের গুরু নানক ডেইরি অ্যান্ড সুইটসকে কেন্দ্র করে। পুনঃপরিদর্শনে দোকানটি ৩৬টির মধ্যে ৩৫টি মানদণ্ড অর্থাৎ ৯৮ শতাংশ নিয়ম মেনে চলার প্রমাণ দিলেও, বিনা কারণে ৩৪ দিন দোকানটি বন্ধ রাখা হয়। এই ঘটনায় হাইকোর্ট ক্ষুব্ধ হয়ে এফডিএ-কে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। একই ধরনের ছবি দেখা যায় নভি মুম্বইয়ের পবন বার এবং একটি নামী ফাইভ স্টার হোটেলের ক্ষেত্রেও, যেখানে সামান্য ত্রুটি সংশোধন করার সুযোগ না দিয়েই লাইসেন্স কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।

আদালতের মূল প্রশ্ন ছিল, স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত ছোটখাটো ত্রুটির জন্য কি অবিলম্বে গোটা ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া বাধ্যতামূলক? আইন অনুযায়ী, জনসাধারণের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি না থাকলে সরাসরি লাইসেন্স বাতিল না করে প্রথমে সংশোধনের সুযোগ বা নোটিশ দেওয়া উচিত। অন্যদিকে, এফডিএ-র সাফাই, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই এই জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হয়েছে। তবে আদালতের এই অনড় অবস্থানের পর তুকারাম মুন্ধের প্রশাসনের এই বড়সড় ধাক্কা খাদ্য নিরাপত্তা এবং ব্যবসায়িক অধিকারের লড়াইকে এক নতুন মোড়ে নিয়ে দাঁড় করাল।

Samrat Das
  • Samrat Das

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *