“আবারও বিকশিত হল দেশ!” অপরিশোধিত তেলের দাম ও বৈশ্বিক সংকটকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে লাফিয়ে বাড়ল জিডিপি

বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, ইরানের যুদ্ধ, বিশ্ববাজারে লাফিয়ে বাড়তে থাকা অপরিশোধিত তেলের দাম এবং মার্কিন শুল্ক বা নিষেধাজ্ঞার মতো কঠিন চ্যালেঞ্জ—কোনো কিছুই দমাতে পারল না ভারতকে। সমস্ত প্রতিকূলতা ও অনিশ্চয়তাকে সম্পূর্ণ তোয়াক্কা না করে দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে চলেছে দেশের অর্থনীতি। সোমবার কেন্দ্রের প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ আর্থিক বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে (এপ্রিল-জুন) ভারতের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জিডিপি (GDP) বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৭.৮ শতাংশে।
বিশেষজ্ঞদের পূর্বানুমানে বড়সড় ধাক্কা দিয়ে এই সাফল্য অর্জন করেছে দেশ। যেখানে রয়টার্স বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সমীক্ষায় প্রথম কোয়ার্টারে জিডিপি ৭.১ শতাংশের আশেপাশে থাকার আশঙ্কা করা হয়েছিল, সেখানে প্রকৃত ফলাফল সমস্ত প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। এমনকি এর আগে গত বছরের একই সময়ে (জুন ত্রৈমাসিকে) জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ৬.৯ শতাংশ। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ ত্রৈমাসিকেও জিডিপির হার ৭.৮ শতাংশই ছিল, কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিক থেকে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই তেলের দাম ও সাপ্লাই চেইন নিয়ে তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। অনেকেই ভেবেছিলেন দেশের অর্থনৈতিক গ্রাফ নিম্নমুখী হবে। তবে সেই সমস্ত আশঙ্কা ভুল প্রমাণিত করে ভারতীয় অর্থনীতি নিজের শক্ত ভিতের ওপর ভর করে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
আর্থিক বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক সংকটের মাঝেও দেশের অভ্যন্তরীণ শক্তিশালী চাহিদা, সরকারের সুনির্দিষ্ট মূলধনী ব্যয়, পণ্য উৎপাদন এবং রফতানি বৃদ্ধির হারই এই অবিশ্বাস্য সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। দেশের এই অভাবনীয় আর্থিক বৃদ্ধিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, সমস্ত ভবিষ্যৎবাণী ভুল প্রমাণিত হয়েছে এবং ভারত আবারও নিজের অপ্রতিরোধ্য অর্থনৈতিক শক্তি প্রমাণ করেছে। বিশ্ববাজারের এই রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে ভারতের এই লাগাতার অগ্রযাত্রা আগামী দিনে দেশের বাজারকে আরও বেশি মজবুত করবে বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।