৬৬ হাজার ডলারে কেনা পরিত্যক্ত ব্যাংক বিল্ডিং আজ হয়ে উঠেছে ১.৩ মিলিয়নের ড্রিম হোম! জানুন অবিশ্বাস্য রূপান্তরের গল্প

কঠিন পরিশ্রম এবং সঠিক দূরদর্শিতা থাকলে যে কোনো সাধারণ জিনিসকেও রাজপ্রাসাদে পরিণত করা সম্ভব—আরেকবার তা প্রমাণ করে দেখালেন লিন স্যাভিনো এবং তাঁর স্বামী মাইকেল। আজ থেকে ১৩ বছর আগে, ২০১৩ সালে তাঁরা আমেরিকার মিশিগান রাজ্যের ডেট্রাইট শহরে একটি পরিত্যক্ত ও ভিরান ব্যাঙ্ক বিল্ডিং কিনেছিলেন মাত্র ৬৬,০০০ ডলারে (ভারতীয় মুদ্রায় যা নামমাত্র)। আর আজ সেই অবহেলিত ও বন্ধ হয়ে যাওয়া ব্যাংক বিল্ডিংটিই রূপ নিয়েছে ১.৩ মিলিয়ন ডলারের (প্রায় ১৩ কোটি টাকা) এক চোখ জুড়ানো বিলাসবহুল বাড়িতে!

নুন আনতে পান্তা ফুরোনোর দিনগুলি

সিদ্ধান্তটি এতটাও সহজ ছিল না। ব্যাঙ্কের কাজের উপযোগী করে তৈরি ওই বিশাল ভবনে কোনো বেডরুম, বাথরুম বা রান্নাঘরের অস্তিত্ব ছিল না। নতুন এই স্বপ্নের প্রজেক্টের জন্য এই দম্পতিকে নিজেদের পুরোনো বাড়ি পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়েছিল। ২০১৪ সালের মে মাসে তাঁরা যখন সেখানে পাকাপাকিভাবে থাকতে শুরু করেন, তখন বাড়িতে কোনো জল বা রান্নার বন্দোবস্ত ছিল না। এক মাস স্নান না করে এবং টানা পাঁচ মাস অন্যের বাড়িতে গিয়ে কাপড় ধুয়ে ও স্নান সেরে দিন কাটাতে হয়েছে তাঁদের।

ঘরের ভেতরেই রয়েছে কোটি টাকার ঐতিহাসিক ছোঁয়া

সিমেট কন্ট্রাক্টর পেশার সুবাদে মাইকেল নিজেই বেশিরভাগ সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করেন। ১৯২৫ সালে তৈরি এই প্রাচীন ব্যাংকের কিছু ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য এখনও অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে। বাড়ির মূল দরজায় থাকা কপার বা তামার তৈরি চৌকাঠটির বর্তমান বাজারমূল্যই প্রায় ৩০,০০০ ডলার (প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা)। এ ছাড়াও পুরনো মার্বেল এবং ব্যাংকের মূল ভল্টটিকে চমৎকারভাবে ওয়াইন সেলার বা ডেকর হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

একসময়ের পরিত্যক্ত সেই ব্যাংক আজ ডেট্রাইটের অন্যতম চর্চিত এবং দামি প্রপার্টিতে পরিণত হয়েছে, যার প্রতি বর্গফুটের দাম আকাশছোঁয়া। দম্পতির এই অসামান্য ডেডিকেশন এবং ধৈর্য এখন নেটদুনিয়ায় ভাইরাল।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: সাধারণ একটা পুরোনো ব্যাংককে কীভাবে স্বপ্নের প্রাসাদে বদলে ফেলা যায়, তার এক অনন্য নজির স্থাপন করলেন এই দম্পতি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *