জিভে জল আনা ফুচকাই ডেকে আনছে মারণ রোগ? ক্যাজুয়াল ফুচকা প্রেমীদের জন্য মারাত্মক সতর্কতা জারি বিশেষজ্ঞদের

রাস্তার মোড়ে বাঙালির বিকেলের আড্ডা আর ফুচকা—এই জুটির প্রেম বহু পুরনো। অফিস ফেরত হোক কিংবা কলেজ ছুটির পর বন্ধুদের আড্ডা, ‘ঝালটা একটু বেশি দেবেন’ বা ‘টকটা আর একটু দিন’—এই আবদারে একের পর এক ফুচকা মুখে চালান করা বাঙালির চিরকালীন অভ্যাস। কিন্তু যে খাবারটি জিভে ও মনে এতটা আনন্দ দেয়, তা শরীরের জন্য কতটা নিরাপদ? সম্প্রতি চিকিৎসকদের সতর্কবাণী তেমনই কিছু অজানা এবং চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে।

ফুচকা কি আদতেও স্বাস্থ্যকর?

স্ত্রী-রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পর্ণমিতা ভট্টাচার্য জানাচ্ছেন, ফুচকা তৈরি হয় মূলত ময়দা দিয়ে, যা তেলে ভাজার পর আলুর পুর দিয়ে পরিবেশন করা হয়। ফলে পুরো খাবারটিতে কার্বোহাইড্রেটের আধিক্য থাকে এবং পর্যাপ্ত ফাইবার বা প্রোটিন থাকে না। অর্থাৎ, এটি একপ্রকার ফাস্ট ফুড যা শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি যোগ করে। বিশেষ করে যাঁদের পলিসিস্টিক ওভারি বা PCOS-এর সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে নিয়মিত ফুচকা খাওয়ার অভ্যাস ওজন বৃদ্ধি করে উপসর্গগুলোকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। এছাড়া গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে বাইরে তৈরি ফুচকা বা তার জল থেকে হেপাটাইটিসের মতো মারাত্মক সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।

জল ও হাইজিনের বড় বিপদ

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট চিকিৎসক শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় ও মাইক্রোবায়োলজিস্ট সুদীপ রায়ের মতে, ফুচকার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি হলো হাইজিন এবং জলের উৎস।

  • সংক্রমণের আশঙ্কা: ফুচকার জল যদি দূষিত হয়, তবে সেখান থেকে জন্ডিস, টাইফয়েড, কলেরা এবং রোটাভাইরাস বা নোরোভাইরাসের মতো মারাত্মক সংক্রমণ হতে পারে। অনেক সময় এই ধরনের জলবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে রোগীকে হাসপাতালে বা আইসিইউ পর্যন্ত যেতে হয়।

  • গ্যাস্ট্রাইটিস ও পেটের সমস্যা: অতিরিক্ত ঝাল ও টক খাওয়ার প্রবণতা এবং দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে ফুচকা খাওয়ার ফলে গ্যাস্ট্রাইটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা দেখা দিতে পারে। নিয়মিত ফুচকা খাওয়ার অভ্যাস ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।

বর্ষাকালে ঝুঁকি সর্বাধিক

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষার মরশুমে পানীয় জলের পাইপলাইনের সঙ্গে নিকাশি ব্যবস্থার দূষিত জল মিশে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে এই সময়ে বাইরে ফুচকা খাওয়ার ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

বাঙালি কি ফুচকা ছাড়তে রাজি?

চিকিৎসকরা ফুচকার দোকান বন্ধ করার বা খাওয়া একেবারে নিষিদ্ধ করার কথা বলছেন না। তাঁদের পরামর্শ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং হাইজিন বজায় রেখে তৈরি ফুচকা মাঝেমধ্যে খাওয়া যেতে পারে। তবে প্রতিদিন বা নিয়ম করে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি ফুচকা খাওয়ার অভ্যাস শরীরের জন্য মারাত্মক ডেকে আনতে পারে। রসনাতৃপ্তি হোক, তবে তা যেন স্বাস্থ্যের সঙ্গে আপস করে না হয়!

বিশেষ দ্রষ্টব্য: চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে একটু সতর্ক হয়ে ফুচকা খেলেই শরীরকে সুস্থ রেখে এই জনপ্রিয় স্ট্রিট ফুডের স্বাদ উপভোগ করা সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *