জনবিন্যাস সঙ্কটে মরিয়া চিন! ব্যাঙ্কে গিয়ে বিয়ে, নাইটক্লাবে শংসাপত্র— আসল রহস্যটা কী?

বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে বিয়ে ও সংসার পাতার প্রতি অনীহা এবং হু হু করে কমতে থাকা জন্মহার— এই দুইয়ের জেরে মারাত্মক জনবিন্যাস সঙ্কটের মুখে পড়েছে চিন। এই সংকট কাটাতে এবার এক প্রকার নজিরবিহীন ও অভিনব পদক্ষেপ করল শি জিনপিং প্রশাসন। দেশের তরুণ প্রজন্মকে বিয়েতে উৎসাহিত করতে হাসপাতাল, ব্যাঙ্ক, নাইটক্লাব এবং মেট্রো স্টেশনের মতো অপ্রত্যাশিত জায়গাগুলিতেও চালু করা হয়েছে ‘ম্যারেজ রেজিস্ট্রেশন কাউন্টার’।

কোথায় কোথায় মিলছে বিয়ের শংসাপত্র?

‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিনের বিভিন্ন প্রান্তে অত্যন্ত অভিনব উপায়ে বিয়ের আইনি প্রক্রিয়া সহজলভ্য করা হচ্ছে।

  • হাসপাতাল: শানদংয়ের লিনজ়ি জেলার একটি প্রসূতি ও শিশু স্বাস্থ্য হাসপাতালে ‘ওয়ান-স্টপ শপ’ প্রকল্পের আওতায় বিয়ের রেজিস্ট্রি এবং প্রাক-বিবাহ স্বাস্থ্য পরীক্ষার পাশাপাশি সন্তানধারণ নিয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

  • ব্যাঙ্ক ও বিমানবন্দর: পোস্টাল সেভিংস ব্যাঙ্ক অফ চায়না এই পরিষেবা চালু করেছে। পাশাপাশি গুয়াংঝৌ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এমন জায়গায় অফিস খোলা হয়েছে যেখান থেকে যুগলরা বিমান ওঠানামা দেখতে দেখতে বিয়ের শংসাপত্র পেতে পারেন।

  • নাইটক্লাব ও মেট্রো: স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে শাংহাইয়ের একটি নাইটক্লাব এবং বেশ কিছু মেট্রো স্টেশনেও ম্যারেজ রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে বিয়ের পর উদযাপনের জন্য ইডিএম (EDM) মিউজিক ফেস্টিভ্যালেরও আয়োজন থাকছে।

সরকারের এই মরিয়া চেষ্টার কারণ কী?

চিনে লাগাতার কমতে থাকা জন্মহার এবং কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা হ্রাস পাওয়ার কারণে দেশটির অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় রয়েছে প্রশাসন। তরুণ সমাজ যাতে ঝঞ্ঝাটহীনভাবে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন, তার জন্যই এই তোড়জোড়। যদিও সরকারের এই উদ্যোগ নিয়ে ইতিমধ্যেই সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, কেবল রেজিস্ট্রেশন কাউন্টার বাড়িয়ে মানুষের অনীহা দূর করা সম্ভব নয়; এর জন্য জীবনযাত্রার মান, আর্থিক স্থায়িত্ব এবং সামাজিক নিরাপত্তার মতো আসল সমস্যাগুলোর সমাধান করা বেশি জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *