সিসিটিভি দেখতে দিতে চেয়েছিল ১৫০০ টাকা ঘুষ! দিল্লির প্লে-স্কুলে অবুঝ শিশুর ওপর পৈশাচিক অত্যাচারে তোলপাড়

শিক্ষার মন্দিরে চরম অমানবিকতা। সাড়ে তিন বছরের একরত্তি শিশুর ওপর পৈশাচিক নির্যাতনের অভিযোগে তোলপাড় উত্তর-পূর্ব দিল্লির জাফরাবাদ থানা এলাকা। স্কুলের শিক্ষক ও আয়ার বিরুদ্ধে একটি প্লে-স্কুলে ওই শিশুকে চেয়ারে বেঁধে মারধর এবং যৌন নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় স্কুলের ডিরেক্টর ও প্রিন্সিপালসহ মোট চারজনের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা রুজু করেছে দিল্লি পুলিশ।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে শিশুটি রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছিল না এবং টয়লেটে যেতেও চরম ভয় পাচ্ছিল। সবসময় এক ধরণের আতঙ্কে গুটিয়ে থাকত সে। ছেলের এমন অস্বাভাবিক আচরণ দেখে সন্দেহ হওয়ায় বাবা-মা তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, শিশুটির কানের পর্দা ফুলে গিয়েছে এবং তার শরীরে মারধরের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে।
এরপর স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার কৈফিয়ত চাইতে যান অভিভাবকরা। সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চাইলে প্রথমে তা দেখাতে নানা টালবাহানা ও অজুহাত দেখায় স্কুল কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ, পরবর্তীতে ১৫০০ টাকার বিনিময়ে সেই ফুটেজ দেখাতে রাজি হয় তারা। সেই ফুটেজ দেখেই শিউরে ওঠেন শিশুর বাবা-মা। ভিডিওতে দেখা যায়, ক্লাসরুমে শিশুটিকে কান ধরে মারধর করার পর দীর্ঘক্ষণ চেয়ারে বেঁধে রাখা হয়েছে এবং তাকে লাথি মেরে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, টিফিনের সময় তাকে খেতে না দিয়ে বসিয়ে রাখার পাশাপাশি স্কুলের এক আয়া তার যৌনাঙ্গে আঘাত করেছে বলেও ভিডিওতে স্পষ্ট ধরা পড়েছে।
এই ভয়ংকর দৃশ্য দেখার পরই জাফরাবাদ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে পরিবার। পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে সিসিটিভি ফুটেজ, মেডিক্যাল রিপোর্ট এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে পকসো আইন ও ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করে ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।