জঙ্গলে ফেলে দেওয়া হলো দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর মূর্তি! দুর্গাপুরের ঘটনায় চরম রাজনৈতিক উত্তপ্ত রাজ্য!

দুর্গাপুরে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর মূর্তি উপড়ে জঙ্গলের মধ্যে ফেলে দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তাপ সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার তীব্র নিন্দা করে অবিলম্বে মূর্তিটি সসম্মানে পুনঃস্থাপন এবং এর সঙ্গে যুক্ত দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস। দলের রাজ্য সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এই ঘটনাকে নিছক একটি মূর্তি ভাঙার ঘটনা হিসেবে না দেখে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের ওপর আঘাত বলে মন্তব্য করেছেন।
ঠিক কী ঘটেছিল দুর্গাপুরে?
অভিযোগ উঠেছে, দুর্গাপুরের হর্ষবর্ধন প্রাথমিক স্কুল সংলগ্ন একটি মেডিটেশন সেন্টারের সামনে দীর্ঘ দিন ধরে সযত্নে রাখা পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর মূর্তিটি ক্রেনের সাহায্যে জোরপূর্বক সরিয়ে ফেলা হয়। পরবর্তীতে সেটিকে পাশের একটি ঘন জঙ্গলের মধ্যে ফেলে রাখা হয় বলে কংগ্রেসের তরফে দাবি করা হয়। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। প্রতিবাদে আসরে নামে জেলা কংগ্রেস নেতৃত্ব।
জেলা কংগ্রেস সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তীর অভিযোগ, সুপরিকল্পিতভাবে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর মূর্তিকে অপমান করা হয়েছে। তাঁর মতে, এটি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের প্রতি চরম অসম্মান।
শুভঙ্কর সরকারের কড়া প্রতিক্রিয়া
ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, “পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু শুধু কংগ্রেসের নেতা ছিলেন না; তিনি ছিলেন দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামী, প্রথম প্রধানমন্ত্রী এবং আধুনিক ভারত নির্মাণের অন্যতম প্রধান স্থপতি। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রীকে অপমান করার অধিকার কারও নেই।”
কংগ্রেসের তরফে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের কাছে মূলত দুটি স্পষ্ট দাবি জানানো হয়েছে:
-
অবিলম্বে নেহরুর মূর্তিটি যথাযথ সম্মানের সঙ্গে পূর্বের স্থানে পুনঃস্থাপন করতে হবে।
-
ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে গ্রেফতার করতে হবে।
দলের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, এই দাবি দ্রুত পূরণ না হলে বিষয়টি নিয়ে বৃহত্তর গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নামবে প্রদেশ কংগ্রেস।
রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে
এই ঘটনায় শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক দোষারোপের পালা। দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় পুরো ঘটনাটির পেছনে কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে দায়ী করেছেন। তাঁর দাবি, মূর্তি সরানোর সঙ্গে বিজেপির দূরদূরান্ত পর্যন্ত কোনো সম্পর্ক নেই এবং এই ধরনের কাজকে তারা সমর্থন করে না। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলের গুরুত্ব বাড়াতে এই ইস্যু তৈরি করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। এখন দেখার, পুলিশি তদন্তে প্রকৃত সত্য কী সামনে আসে।