রক্তদান শিবিরে ভুয়ো ডাক্তার! টাকার লোভে মেডিক্যাল পড়ুয়াদের সাজানো হতো অফিসার

রক্তদান শিবিরের মতো একটি সংবেদনশীল ও জীবনদায়ী ব্যবস্থাতেও দুর্নীতির পাহাড় প্রমাণ অভিযোগ সামনে এল। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি রক্তদান শিবিরে নির্দিষ্ট মেডিক্যাল অফিসারের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক থাকলেও, বাস্তবে সেখানে চিকিৎসকদের বদলে মেডিক্যাল পড়ুয়াদের ব্যবহার করা হতো বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, ভুয়ো ডাক্তার সাজিয়ে এই ক্যাম্পগুলি চালানোর নেপথ্যে রয়েছে একশ্রেণির ছাত্রনেতার একটি বড় চক্র। ইতিমধ্যে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে স্বাস্থ্যভবন।
সূত্রের খবর, এই ভুয়ো চক্রের সঙ্গে যুক্ত পড়ুয়ারা প্রতিটি শিবিরে উপস্থিত থাকার জন্য নামমাত্র ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা পেত। অথচ সংশ্লিষ্ট বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কগুলি ওই কাজের জন্য বরাদ্দ করত প্রায় ১৫০০ টাকা পর্যন্ত। তাহলে মাঝের বাড়তি টাকা কোথায় যেত? তদন্তে নেমে গোয়েন্দা ও স্বাস্থ্য আধিকারিকরা জানতে পেরেছেন, এই অবশিষ্ট টাকা চলে যেত প্রভাবশালী কিছু ছাত্রনেতার পকেটে। কমিশন হিসেবে সেই টাকা আত্মসাৎ করত তারা।
এই গুরুতর অভিযোগ জমা পড়ার পরেই নড়েচড়ে বসেছে স্বাস্থ্যভবন। সম্প্রতি স্বাস্থ্যভবনে কয়েকজন ছাত্রকে ডেকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হয়। সেই জেরার মুখেই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। জানা যায়, কলকাতার তিনটি নামী মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রনেতারা নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষের পড়ুয়াদের ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্পে মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে পাঠাতেন। বিনিময়ে ছাত্রনেতারা মোটা অংকের কমিশন নিতেন।
প্রাথমিক তদন্তে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ, এনআরএস এবং এসএসকেএম হাসপাতালের তিন ছাত্রনেতাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁদের বিরুদ্ধে পাকাপোক্ত প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে।
বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন মহল। ‘মেডিভিশন’-এর দক্ষিণবঙ্গ স্টেট কমিটির কনভেনর মানস বর্মণ এই দুর্নীতির জন্য শাসকদল সহ বামেদেরও একহাত নিয়েছেন। তাঁর দাবি, গত কয়েক বছর ধরে রক্তদান শিবিরের মতো পবিত্র সামাজিক কাজের আড়ালে এই দুর্নীতি শিকড় গেড়েছে। অবিলম্বে এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত অভিযুক্তকে চিহ্নিত করে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। এখন স্বাস্থ্যভবন এই তদন্ত প্রক্রিয়া কত দ্রুত শেষ করে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়, সেদিকেই সকলের নজর রয়েছে।