রান্নাঘরে বিষ খাচ্ছেন না তো? গুণমানের পরীক্ষায় ডাহা ফেল করে নিষিদ্ধ হল জনপ্রিয় এভারেস্টের হিং!

হেঁশেলে প্রতিদিনের রান্নায় যে হিং ব্যবহার করেন, তা কতটা খাঁটি? এই প্রশ্নই এখন বড়সড় ভাবনায় ফেলে দিয়েছে সাধারণ মানুষকে। কারণ, গুণগত মানের পরীক্ষায় একেবারে ডাহা ‘ফেল’ করেছে জনপ্রিয় মশলা প্রস্তুতকারী সংস্থা এভারেস্ট (Everest)। গ্রাহকদের একের পর এক অভিযোগের ভিত্তিতে নড়েচড়ে বসে ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অব ইন্ডিয়া (FSSAI)। এরপরই এভারেস্টের হিং এবং ‘লালজি গোধু’ (Laljee Godhoo)-র তৈরি হিং বিক্রির ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করল কেন্দ্র।
কেন নিষিদ্ধ করা হলো এই হিং? খাদ্য সুরক্ষা আইন অনুযায়ী, ‘কম্পাউন্ডেড হিং’-এ অন্তত ৫ শতাংশ অ্যালকোহল-সলিউবল এক্সট্র্যাক্ট থাকা বাধ্যতামূলক। রান্নার সুবিধার জন্য কাঁচা হিংয়ের সঙ্গে ভোজ্য স্টার্চ বা ময়দা মিশিয়ে এটি তৈরি করা হয়। কিন্তু FSSAI-এর ল্যাব পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এভারেস্টের নমুনাগুলিতে এই উপাদানের পরিমাণ মাত্র ০ থেকে ৩ শতাংশ রয়েছে! অর্থাৎ, নির্ধারিত মাত্রার তুলনায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম কাঁচা হিং ব্যবহার করা হচ্ছিল।
অন্যদিকে, ‘লালজি গোধু’-র হিংয়ের নমুনা পরীক্ষা করে দেখা যায়, নিয়ম অনুযায়ী যেখানে হিংয়ে সর্বোচ্চ ১ শতাংশ স্টার্চ থাকার কথা, সেখানে সেগুলিতে ১৫ থেকে ৩২ শতাংশ পর্যন্ত স্টার্চ মেশানো রয়েছে! এরপরই দুই সংস্থার হিং বিক্রির ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করে FSSAI। বাজারে ইতিমধ্যেই থাকা নিম্নমানের সমস্ত হিং দ্রুত তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সঠিক নিয়ম মেনে কীভাবে পণ্য উৎপাদন করা হবে, তার সন্তোষজনক ব্যাখ্যা ও পরিকল্পনা জমা দিতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে।
এভারেস্টের অন্য মশলাতেও নজর: শুধু হিং-ই নয়, FSSAI-এর নজরে রয়েছে এভারেস্টের আরও তিন জনপ্রিয় মশলা—এগ কারি মশলা, চিকেন মশলা এবং গরম মশলা। যদিও এই তিনটি পণ্যের বিক্রির ওপর আপাতত কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি, তবে গুণমান নিয়ে তৈরি হওয়া এই বিতর্কে মশলা বাজারের অন্দরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।