‘হঠাৎ চারপাশ অন্ধকার হয়ে গেল!’ ক্লাসরুমে হড়পা বান আসার পর ৮ বছরের খুদে যা করল, শুনলে শিউরে উঠবেন!

চারদিক হঠাৎ ‘অনেক অনেক অন্ধকার…’, তুমি ভয় পাওনি? দু’দিকে মাথা নেড়ে মাত্র ৮ বছরের নির্ভীক ছেলেটা সোজা উত্তর দিল, ‘না’৷ নেপালের ভয়ংকর হড়পা বানের গ্রাস থেকে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে যেভাবে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছে ৮ বছরের জোয়াল, তা শুনলে গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠবে যে কারও।
কীভাবে রক্ষা পেয়েছিল ছোট জোয়াল?
প্রতিদিনের মতোই সেদিন হাসিমুখে স্কুলে গিয়েছিল দুই ভাই। কিন্তু হঠাৎ করেই প্রকৃতির এক সর্বগ্রাসী রূপ নেমে আসে। লাংটাং লিরুং পর্বতের কাছে হিমবাহের একটি অংশ ভেঙে পড়ার ফলে সৃষ্টি হয় এই ভয়াবহ হড়পা বানের। বরফ ও পাথরের বিশাল ধসের জেরে উপত্যকার মধ্যে জল, কাদা এবং ধ্বংসাবশেষ প্রবল বেগে ধেয়ে আসে।
স্কুলে ক্লাস চলাকালীন আচমকাই চারপাশ অন্ধকার হয়ে যাওয়ার পর এক সহপাঠীকে নিয়ে দ্রুত স্কুল চত্বর ছেড়ে পাশের একটি জঙ্গলের দিকে দৌড় দেয় জোয়াল। প্রবল জলস্রোত থেকে প্রাণ বাঁচাতে তারা দু’জন উঠে পড়ে একটি গাছের ডালে। রাসুয়া জেলার এই ভয়ংকর বিপর্যয়ে স্কুলবাড়িটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায় এবং জোয়ালও ভাঙা পা ও মুখে মারাত্মক আঘাত নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছায়।
মায়ের কোল ফেরাল অলৌকিক প্রাপ্তি:
অন্যদিকে, বাড়িতে তাঁত বুনছিলেন মা মাটি মায়া তামাং। হড়পা বানের শব্দ পেয়ে তিনি যখন স্কুলের দিকে ছুটে যান, ততক্ষণে চেনা এলাকাটি পুরোপুরি জলের নিচে তলিয়ে গেছে। কোথায় স্কুল আর কোথায় বাজার—কিছুই চেনার উপায় ছিল না। সারাদিন বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ঘুরেও দুই ছেলের কোনো সন্ধান না পেয়ে মা ধরে নিয়েছিলেন তাঁর সন্তানরা আর বেঁচে নেই। বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন তিনি।
তবে সমস্ত আশার আলো নিভে যাওয়ার পর রয়টার্সের এক সাংবাদিকের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে তাঁর বড় ছেলে জোয়াল অলৌকিকভাবে বেঁচে আছে এবং তাকে কাঠমান্ডুতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এর কিছুক্ষণ পরেই ছোট ছেলেও জীবিত অবস্থায় ফিরে আসে মায়ের কোলে। চোখের পলকে সব হারিয়েও দুই সন্তানকে ফিরে পাওয়ার এই রূপকথার মতো জয় এখন গোটা বিশ্বকে আবেগপ্রবণ করে তুলেছে।