Everest ও LG Brand-এর হিংয়ে বড় নিষেধাজ্ঞা! রান্নার মশলা নিয়ে FSSAI-র কড়া পদক্ষেপ

রান্নার মশলার গুণমান নিয়ে বড়সড় পদক্ষেপ করল ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অব ইন্ডিয়া (FSSAI)। নিম্নমানের মশলা বিক্রি ও নিয়মের গুরুতর লংঘনের অভিযোগে দুটি শীর্ষস্থানীয় সংস্থার ‘কম্পাউন্ডেড হিং’ (Compounded Hing)-এর বিক্রির ওপর তাৎক্ষণিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ‘এভারেস্ট ফুড প্রোডাক্টস প্রাইভেট লিমিটেড’ (Everest Food Products Private Limited) এবং ‘লালজি গোধূ অ্যান্ড কোম্পানি’ (Laljee Godhoo and Company)-র হিং। এর ফলে আপাতত এই দুই সংস্থার তৈরি হিং বাজারে বিক্রি করা যাবে না।

তবে এই নির্দেশকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তির কোনো অবকাশ নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। FSSAI-র এই কড়া পদক্ষেপ শুধুমাত্র নির্দিষ্টভাবে ওই দুই সংস্থার কম্পাউন্ডেড হিংয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। অর্থাৎ, এভারেস্টের অন্যান্য মশলা যেমন গরম মশলা, চিকেন কারি বা ডিম কারির মসলার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি।

যে কারণে এই কড়া পদক্ষেপ জনৈক গ্রাহকের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে কম্পাউন্ডেড হিংয়ের মান যাচাই করতে তদন্ত শুরু করে FSSAI। এর পরই বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন বড় ব্র্যান্ডের হিংয়ের ওপর নজরদারি বাড়িয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় এভারেস্ট এবং এলজি (LG) ব্র্যান্ডের কম্পাউন্ডেড হিংয়ের নমুনাগুলি নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ হয়।

মুম্বইয়ে অবস্থিত এই দুই সংস্থার কেন্দ্রীয় লাইসেন্সপ্রাপ্ত ইউনিট থেকে আইনসম্মতভাবে নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছিল। পাশাপাশি, গুজরাতের উমরগাঁওয়ে এভারেস্টের একটি ইউনিটে গুজরাত স্টেট এফডিএ (Gujarat State FDA)-র সঙ্গে যৌথভাবে পরিদর্শন চালিয়েও নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষার চূড়ান্ত রিপোর্টে সংশ্লিষ্ট কম্পাউন্ডেড হিংয়ের নমুনাগুলিকে ‘সাবস্ট্যান্ডার্ড’ অর্থাৎ নির্ধারিত মানের তুলনায় নিম্নমানের বলে ঘোষণা করা হয়।

পরীক্ষায় ঠিক কী অনিয়ম ধরা পড়েছে? FSSAI-এর নিয়ম অনুযায়ী, কাঁচা হিং বা র হিংয়ের (Raw Hing) সঙ্গে গাম অ্যারাবিক, স্টার্চ এবং ময়দার মতো উপাদান মিশিয়ে কম্পাউন্ডেড হিং প্রস্তুত করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় হিংয়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ উপাদান থাকা বাধ্যতামূলক। নিয়ম বলছে, উৎপাদিত কম্পাউন্ডেড হিংয়ে অন্তত ৫ শতাংশ অ্যালকোহল সলিউবল এক্সট্র্যাক্ট (Alcohol Soluble Extract) থাকা আবশ্যক। কিন্তু ল্যাব পরীক্ষায় এভারেস্ট ও এলজির নমুনায় এই উপাদান পাওয়া গেছে মাত্র ০ থেকে ৩ শতাংশ। অর্থাৎ, নির্ধারিত পরিমাণের তুলনায় অনেক কম কাঁচা হিং ব্যবহার করা হয়েছে।

পাশাপাশি, এলজি ব্র্যান্ডের কাঁচা হিংয়ের মান নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। পরীক্ষার জন্য সংস্থাটির মোট ছয় ধরনের কাঁচা হিংয়ের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী কাঁচা হিংয়ে স্টার্চের পরিমাণ সর্বোচ্চ ১ শতাংশ থাকার কথা। অথচ পরীক্ষায় দেখা গেছে, ওই ছয় ধরনের স্যাম্পলে স্টার্চের পরিমাণ প্রায় ১৫ থেকে ৩২ শতাংশ পর্যন্ত রয়েছে। এছাড়া কাঁচা হিংয়ে ন্যূনতম ১২ শতাংশ অ্যালকোহল সলিউবল এক্সট্র্যাক্ট থাকার নিয়ম থাকলেও তা মানা হয়নি।

বিক্রি বন্ধের পাশাপাশি বাজার থেকে পণ্য ফেরতের নির্দেশ নির্ধারিত মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় FSSAI এভারেস্টের মুম্বই ইউনিট এবং এলজি ব্র্যান্ড ইউনিটের বিরুদ্ধে বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা বা ‘প্রিহিবিশন অব সেল অর্ডার’ জারি করেছে। জনস্বাস্থ্য ও ক্রেতাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকা অবস্থায় সংশ্লিষ্ট সংস্থার হিং বাজারে বিক্রি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। শুধু বিক্রি বন্ধ রাখাই নয়, এই ত্রুটি সংশোধনের জন্য একটি বিস্তারিত অ্যাকশন প্ল্যান বা কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে বলা হয়েছে সংস্থাগুলিকে। একই সঙ্গে বাজারে ছড়িয়ে থাকা নিম্নমানের পণ্যগুলি স্বেচ্ছায় বা ‘ভলান্টারি রিকল’-এর মাধ্যমে বাজার থেকে তুলে নেওয়ার সুপারিশও করেছে ফুড সেফটি অথরিটি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *