রেস্তোরাঁয় হানা দিতেই মিলল ২০ দিনের পুরনো মাছ ও ৩ বছরের পুরনো খেজুর! জানলে চমকে উঠবেন

উৎসবের মরশুমের ঠিক আগে ভোজনরসিক বাঙালির স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় রাজ্যের একাধিক জেলায় নামি-বেনামি রেস্তোরাঁ ও মিষ্টির দোকানে ঝটিকা অভিযান চালাল জেলা প্রশাসন ও খাদ্য দফতর। মালদা ও আসানসোলের বিভিন্ন হোটেল এবং ধাবায় হানা দিয়ে আধিকারিকরা যা দেখলেন, তা সত্যিই আঁতকে ওঠার মতো। ঝাঁ-চকচকে সাইনবোর্ড আর সুদৃশ্য অন্দরের আড়ালে কীভাবে সাধারণ মানুষের পেটে বিষ ঢুকছে, তার ছবি সামনে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
মালদার নামী রেস্তোরাঁয় হাড়হিম করা ছবি:
খাদ্য সুরক্ষা দফতরের পাশাপাশি মালদায় খোদ মাঠে নেমে পড়েন জেলাশাসক রাজনবীর সিং কাপুর। গত তিন-চার দিনে প্রায় ৭০-৮০টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে দেখা গেছে, হাতে গোনা কয়েকটি জায়গা বাদ দিলে কোথাও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার মিলছে না। খোদ জেলাশাসক যখন মালদা শহরের এক নামী রেস্তোরাঁর রান্নাঘরে ঢোকেন, তখন তাঁর চোখ কপালে ওঠে। ফ্রিজ খুলে দেখা যায়, সেখানে মজুত রয়েছে তিন বছর আগে প্যাক করা খেজুর এবং একটি নামী রেস্তোরাঁয় মিলল ২০ দিনের পুরনো মাছ! এছাড়া মিষ্টিতে আসল কেশরের পরিবর্তে ক্ষতিকর কৃত্রিম রং মেশানোর গুরুতর অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে। রান্নাঘরের পাশে খোলা ড্রেন এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখে যে কারও বমি পাওয়ার জোগাড় হতে পারে।
আসানসোলে নর্দমায় ফেলা হলো বাসি বিরিয়ানি: The same grim picture emerged in Asansol too. আসানসোলের ভগৎ সিং মোড় সংলগ্ন বিভিন্ন বিরিয়ানির দোকান ও মিষ্টির দোকানে হানা দেয় খাদ্য দফতর। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি ও সংরক্ষণের অভিযোগে দোকানগুলিতে মজুত বিপুল পরিমাণ বাসি বিরিয়ানি ও মাংস বাজেয়াপ্ত করে সরাসরি নর্দমায় ফেলে নষ্ট করা হয়। মিষ্টির ওপর মাছি ভনভন করা এবং খোলা অবস্থায় খাবার রাখার দায়ে কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের এই মহতী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন ব্যবসায়ী সংগঠনের কর্তারাও। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে আপস করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না; ফুড সেফটি অ্যাক্টের কঠোর ধারায় অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।