বন্যায় ভেসে এল মহিলার নিথর দেহ, ভিড়ের মাঝে দাঁড়িয়ে কান থেকে সোনা ছিনিয়ে নিল লুব্ধলোভীরা!

প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতা যখন চারপাশ গ্রাস করেছে, ঠিক তখনই চরম অমানবিক ও হৃদয়বিদারক এক ঘটনার সাক্ষী থাকল বন্যাবিধ্বস্ত নেপাল। একদিকে যখন স্বজন হারানোর কান্না ও হাহাকারে ভারী হয়ে উঠেছে বাতাস, অন্যদিকে তখন এক মৃত মহিলার দেহ থেকে কানের দুল খুলে নেওয়ার পাশবিক অভিযোগ উঠল স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের ঝড় উঠেছে।

ভাইরাল হওয়া মাত্র ৪১ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, ভয়াবহ বন্যার কাদামাটির মধ্যে পড়ে থাকা এক অজ্ঞাতপরিচয় মহিলার নিথর দেহ কাঠের তক্তা দিয়ে টানা হচ্ছে। এমনকি চুল ধরে টেনে দেহটিকে স্থানান্তরিত করার সময় সেখানে উপস্থিত অন্তত দু’জন ব্যক্তি মৃত মহিলার দুই কান থেকে সোনার দুল অবলীলায় খুলে আলাদা করে রেখে দেয়। সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হল, এই ঘটনার সময় আশেপাশে বেশ কয়েকজন পুরুষ ও মহিলা দাঁড়িয়ে পুরো বিষয়টি নীরব দর্শকের মতো দেখছিলেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই ঘটনার প্রতিবাদ তো দূরের কথা, উল্টে মুঠোফোনে এই অমানবিক ঘটনার ভিডিও রেকর্ড করতে ব্যস্ত ছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই দৃশ্য ভাইরাল হতেই নেটিজেনরা তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন। মৃতদেহের সঙ্গে এমন অসম্মানজনক ও নির্লজ্জ আচরণের কঠোরতম শাস্তির দাবি জোরালো হতে থাকে। পরিস্থিতি দ্রুত বেগতিক দেখে আসরে নামে নেপাল পুলিশ। ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে নেপাল পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে, মৃতদেহ থেকে গয়না চুরির এই জঘন্য অপরাধে সরাসরি যুক্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ইতিমধ্যেই হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে নেপাল এবং তিব্বত সীমান্তে ব্যাপক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। এখনও পর্যন্ত এই ভয়াল প্রাকৃতিক দুর্যোগে চার শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং প্রায় ১,৪৬৮ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। বহু ভারতীয় নাগরিকও সেখানে আটকে পড়েছেন, যার মধ্যে অন্তত ২৯০ জনের এখনও কোনো সন্ধান মেলেনি। ধ্বংসপ্রাপ্ত রাস্তাঘাট, ভাঙা সেতু এবং স্তূপীকৃত কাদামাটির জেরে উদ্ধারকাজও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এমন এক চরম মানবিক সংকটের আবহে মৃতদেহের গয়না চুরির এই ঘটনা মানুষের অবক্ষয় ও পিশাচসুলভ রূপকে উন্মোচন করে গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *