গুগল পে-ফোনপে ব্যবহার করেন? এল বিরাট বদল, টাকা পাঠাতে আর লাগবে না কিউআর কোড বা ইউপিআই আইডি!

আজকাল আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইউপিআই (UPI) পেমেন্ট এক অপরিহার্য অঙ্গ হয়ে উঠেছে। সকালে পাড়ার দোকান থেকে দুধ কেনা হোক কিংবা সেলুনে চুল কাটানো—সামান্য অঙ্কের লেনদেনের জন্যও আমরা ফোন বের করে গুগল পে বা ফোনপে স্ক্যান করতে অভ্যস্ত। কিন্তু এতদিন টাকা পাঠানোর জন্য ইউপিআই আইডি, কিউআর কোড বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বরের প্রয়োজন হতো। গ্রাহকদের লেনদেন আরও সহজ ও ঝামেলামুক্ত করতে এবার চালু হয়েছে ‘ইউপিআই নম্বর’ (UPI Number)-এর নতুন সুবিধা।

কী এই ‘ইউপিআই নম্বর’?
ইউনিফাইড পেমেন্টস ইন্টারফেস বা ইউপিআই হলো একটি রিয়েল-টাইম পেমেন্ট ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে দিনরাত যেকোনো সময় এক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে তাৎক্ষণিকভাবে টাকা পাঠানো যায়। নতুন এই ব্যবস্থায় ৮ থেকে ৯ অঙ্কের একটি বিশেষ নম্বর অথবা আপনার ১০ সংখ্যার মোবাইল নম্বরটি সরাসরি ইউপিআই আইডির সঙ্গে যুক্ত করা যায়। সহজ কথায়, জটিল সব ইউপিআই আইডির পরিবর্তে কেবল এই নির্দিষ্ট নম্বরটি ব্যবহার করেই যেকোনো পেমেন্ট অ্যাপের মাধ্যমে টাকা পাঠানো বা গ্রহণ করা সম্ভব।

কীভাবে তৈরি করবেন নিজের ‘ইউপিআই নম্বর’?
১) প্রথমে আপনার ফোনে থাকা যেকোনো পেমেন্ট অ্যাপ (যেমন—গুগল পে, ফোনপে বা পেটিএম) ওপেন করুন।
২) এরপর প্রোফাইল বা সেটিংস অপশনে গিয়ে সংশ্লিষ্ট মেনু বেছে নিন।
৩) সেখানে আপনার পছন্দের ৮ থেকে ৯ সংখ্যার একটি নম্বর বা আপনার মোবাইল নম্বরটি এন্ট্রি করুন।
৪) তথ্য কনফার্ম করার সঙ্গে সঙ্গেই নম্বরটি আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ইউপিআই আইডির সঙ্গে সফলভাবে যুক্ত হয়ে যাবে।

প্রয়োজনে এই নম্বরটি ডিলিট বা ডিঅ্যাক্টিভেট করার প্রক্রিয়াও অত্যন্ত সহজ। পেমেন্ট অ্যাপের নির্দিষ্ট অপশনে গিয়ে যে নম্বরটি সরাতে চান, তা বেছে নিয়ে ডিলিট অপশনে ক্লিক করলেই তা মুছে ফেলা সম্ভব।

নতুন এই ব্যবস্থার প্রধান সুবিধাগুলি কী কী?

সহজ স্মরণ ক্ষমতা: জটিল এবং বড় আকারের ইউপিআই আইডির চেয়ে ছোট ও নির্দিষ্ট সংখ্যা মনে রাখা অনেক বেশি সুবিধাজনক।

গোপনীয়তা রক্ষা: কাউকে নিজের মূল ইউপিআই আইডি বা ব্যাংক সংক্রান্ত ব্যক্তিগত বিবরণ শেয়ার করার কোনো প্রয়োজন পড়ে না।

দ্রুত লেনদেন: যেকোনো পেমেন্ট অ্যাপ ব্যবহার করে অত্যন্ত দ্রুত ও নিরাপদে টাকা আদান-প্রদান করা যায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *