সাহায্য নেব না বলে নাটক! চাপের মুখে সুর বদল নেপালের, বিপর্যয় মোকাবিলায় দৌড়াচ্ছে ভারত

হঠাত্ সিদ্ধান্ত বদল করে চরম বিপর্যয়ের মুখে বিদেশি সাহায্যের দরজা খুলল নেপাল। হড়পা বানের জেরে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় প্রথমে দেশটি জানিয়েছিল বিদেশি উদ্ধারকারী দলের কোনও প্রয়োজন নেই। তবে বিভিন্ন দেশের তীব্র কূটনৈতিক চাপ এবং শতাধিক বিদেশি পর্যটকের নিখোঁজ থাকার ঘটনায় শেষ পর্যন্ত অবস্থান বদল করতে বাধ্য হয় কাঠমান্ডু। তবে শর্তসাপেক্ষে সাহায্য নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধারকাজ, ডিএনএ এবং ফরেন্সিক পরীক্ষার মতো বিশেষ ক্ষেত্রে বিদেশি দলগুলি হাত লাগাতে পারলেও সরাসরি সাধারণ উদ্ধারকাজে তাদের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।
ভয়াবহ এই বিপর্যয়ের জেরে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের রসুয়া জেলায় ১৩টি ব্রিজ ভেসে গিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এই বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলিতে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন করতে অবিলম্বে ৪২টি নতুন ব্রিজের প্রয়োজন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারত ও চিনের কাছে সাহায্য চেয়েছে নেপাল। বিশেষ করে ভারতের কাছে বেইলি ব্রিজ তৈরির জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। এর আগে ভারতীয় সেনার পক্ষ থেকে বেইলি ব্রিজ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা নিয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানায়নি নেপাল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নেপালের অনুরোধে সাড়া দিয়ে একাধিক বেইলি ব্রিজ নির্মাণের জন্য একটি বিশেষ টেকনিক্যাল টিম পাঠাচ্ছে নয়াদিল্লি।
দুর্ঘটনা কবলিত এলাকায় উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য প্রতিকূল আবহাওয়া এবং উপত্যকায় কাজের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বিশেষ মিলিটারি ইউনিট পাঠাচ্ছে ভারত। ইতিমধ্যেই কাঠমান্ডু পৌঁছে গিয়েছে ১১ জনের একটি বিশেষ মেডিক্যাল টিম। পাশাপাশি, সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারে ভারতীয় বায়ুসেনার তৃতীয় ত্রাণবাহী বিমানে করে বিশেষজ্ঞ দল পাঠানো হয়েছে।
নেপাল সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্রটি নিম্নরূপ:
উদ্ধার হওয়া বিদেশি নাগরিক: শুক্রবার পর্যন্ত মোট ১৭১ জন বিদেশি পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৫ জন ভারতীয়, ১৬ জন চিনা, ৯ জন দক্ষিণ কোরিয়ান, ১ জন মার্কিন এবং ১ জন ইতালির নাগরিক রয়েছেন।
এয়ারলিফ্ট ও আটকে থাকা শ্রমিক: দেশজুড়ে এখনও পর্যন্ত ১৫০০ মানুষকে এয়ারলিফ্ট করা হয়েছে। যার মধ্যে রসুয়ার হাইডেল প্রজেক্ট থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে ৩৬০ জনকে। তবে বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে এখনও প্রায় ১০০০ শ্রমিক আটকে রয়েছেন।
মৃতের সংখ্যা: নেপাল পুলিশের দাবি অনুযায়ী, বিপর্যয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ইতিমধ্যেই বেড়ে ৬২৬ জনে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, নেপালের উদ্ধারকাজে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী বা এনডিআরএফ (NDRF) পাঠাতে চেয়ে কাঠমান্ডুকে চিঠি পাঠিয়েছে ভারত। তবে এই বিষয়ে এখনও নেপাল সরকারের তরফ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক উত্তর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক।