বোরওয়েলের ভেতরে নামলেই নিভে যাচ্ছে প্রাণ! প্রশাসনের চরম গাফিলতিতে একই পরিবারে নামল নেমে এল ঘোর অমাবস্যা

মধ্যপ্রদেশের পান্না জেলার পাওয়াই থানার অন্তর্গত নারায়ণপুরা গ্রামে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনায় স্তম্ভিত পুরো এলাকা। একটি বোরওয়েল বা নলকূপের নিচে নেমে মাত্র আট দিনের ব্যবধানে একই পরিবারের তিন সদস্যের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় পরিবারটি যেমন সর্বস্বান্ত হয়েছে, তেমনই প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও উদাসীনতা নিয়ে ফুঁসে উঠেছেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২০ আগস্ট। ওই দিন নারায়ণপুরা গ্রামের বাসিন্দা উজাগর লাল বর্মন (৫৫) এবং তাঁর ছোট ছেলে আতিল বর্মন (৩০) একটি বোরওয়েলের মোটর সারানোর কাজের জন্য নলকূপের ভেতরে নেমেছিলেন। কিন্তু বিষাক্ত গ্যাস বা শ্বাসরোধের কারণে গভীর নলের ভেতরেই দুজনেই সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত হাসপাতালেও তাঁদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ হিসেবে শ্বাসরোধের কথা উল্লেখ করা হয়।

এই জোড়া মৃত্যুর শোক কাটতে না কাটতেই শুক্রবার ফের নেমে আসে আরও বড় বিপর্যয়। প্রথম ঘটনায় প্রাণ হারানো উজাগর লালের বড় ছেলে সতীশ বর্মনও (৩২) একই বোরওয়েল সংক্রান্ত পরিস্থিতিতে মারা যান। পরিবারের সদস্যদের দাবি, নলকূপের ভেতরে নামার পর সতীশেরও তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হয় এবং মুখে তেতো স্বাদ অনুভূত হয়। পরে দ্রুত তাঁকে পাওয়াই কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। মাত্র আট দিনের ব্যবধানে একই পরিবারের বাবা ও দুই ভাইয়ের এই আকস্মিক মৃত্যুতে গোটা গ্রামে শোকের মাতম চলছে।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, প্রথম ঘটনার পরেই যদি প্রশাসন নড়েচড়ে বসত এবং এলাকার সমস্ত খোলা ও অনিরাপদ বোরওয়েলগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করত, তবে হয়তো এই প্রাণঘাতী পরিণতি এড়ানো যেত। ঘটনার পর স্থানীয় বিজেপি নেতারা প্রশাসনের কাছে বারবার তদন্তের দাবি জানালেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। বর্তমানে পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *