মা, বাবা ও ১২ বছরের অবুঝ শিশুকে একসঙ্গে শেষ করে দিল! ঝাড়খণ্ডের এই লোমহর্ষক ঘটনায় কাঁপছে রাজ্য

ঝাড়খণ্ডের পশ্চিম সিংভূম (West Singhbhum) জেলায় জমি সংক্রান্ত বিবাদের জেরে এক পরিবারের তিন সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। টন্টো থানা এলাকার কেঞ্জরা টোলি তারোপবুরু গ্রামে ঘটা এই ভয়াবহ ত্রিপল মার্ডারের ঘটনায় গোটা এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে খুনে ব্যবহৃত রক্তমাখা অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত তিন ব্যক্তি হলেন— করিব রাজিন দোরাইবুরু (৪০), তাঁর স্ত্রী জানো দোরাইবুরু (৩৮) এবং তাঁদের মাত্র ১২ বছরের ছেলে কান্দে দোরাইবুরু। গত ২৬ আগস্ট টন্টো থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয় যে, একই পরিবারের তিনজনকে সুপরিকল্পিতভাবে খুন করে তাদের মরদেহ গায়েব করে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে জেলা পুলিশ সুপার অবিলম্বে জগন্নাথপুর এসডিপিও রাফায়েল মুরমুর নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেন।

প্রযুক্তিগত প্রমাণ এবং স্থানীয় গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে অভিযান চালিয়ে পুলিশ বনজ দোরাইবুরু (১৯) এবং মুচিয়া দোরাইবুরু (২০) নামের দুজনকে পাকড়াও করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে নিজেদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের জবানবন্দি অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের একটি জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এই খুন করা হয়।

ধৃতদের দেখিয়ে দেওয়া নির্দিষ্ট স্থান থেকে পুলিশ প্রথমে করিব রাজিন ও তাঁর ছেলে কান্দের মরদেহ উদ্ধার করে। এর পর সেখান থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত একটি ঘন জঙ্গল থেকে স্ত্রী জানো দোরাইবুরুর মরদেহও মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করা হয়। তিনটি মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাইবাসার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, অপরাধে ব্যবহৃত রক্তমাখা কুঠার বা কুড়ালটিও উদ্ধার করেছে তদন্তকারীরা। জমি বিবাদের নেপথ্যে অন্য কোনো গভীর ষড়যন্ত্র বা আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে জোরদার তদন্ত চালাচ্ছে পশ্চিম সিংভূম জেলা পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *