হিমালয়ে বড় বিপর্যয়! ভারতকে চরম সতর্কবার্তা দিয়ে নেপালের বিদেশমন্ত্রী যা বললেন, জানলে শিউরে উঠবেন!

“হিমালয়ে যা গলে, সমুদ্রে তা-ই উপচে পড়ে”—হিমালয়ের ভঙ্গুর বাস্তুতন্ত্রের কারণে ভারত ও নেপালের সামনে যে পরিবেশগত মহাবিপদ ঘনাচ্ছে, তা বোঝাতে গিয়ে এই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খনাল। কাঠমান্ডুতে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, বহু প্রাচীন সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সম্পর্কের পাশাপাশি ভারত-নেপাল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এবার পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রের নিريখে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার সময় এসেছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের সংকট ও হিমালয়ের দশা

শিশির খনাল বলেন, ভারত ও নেপালের শতাব্দীপ্রাচীন সম্পর্ককে এতদিন মূলত ‘রুটি-বেটি’ কিংবা ধর্মীয় ও সামাজিক বন্ধন দিয়েই দেখা হয়েছে। তবে বর্তমান জলবায়ু পরিবর্তনের সংকটময় পরিস্থিতিতে দুই দেশের সম্পর্কের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত যৌথ পরিবেশগত অংশীদারিত্ব। সম্প্রতি নেপাল-চীন সীমান্ত সংলগ্ন হিমালয় অঞ্চলে মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল বা হড়পা বান নেপালের বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে তছনছ করে দিয়েছে।

ভারতের ওপর এর প্রভাব ও সতর্কতা

সৌভাগ্যবশত সাম্প্রতিক এই বন্যার প্রভাব সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের নিম্নাঞ্চলে সরাসরি না পড়লেও, অতীতে এমন মারাত্মক বিপর্যয় একাধিকবার ঘটেছে এবং ভবিষ্যতেও ঘটার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। গন্ধক ও কোশীর মতো প্রধান নদীগুলি নেপালের ওপর দিয়ে ভারতে প্রবেশ করায় পাহাড়ে দুর্যোগ দেখা দিলেই ভারতীয় ভূখণ্ডে বন্যার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের সীমান্ত এলাকায় কড়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিভেদ ও মতপার্থক্য ভুলে এই প্রাকৃতিক সংকট মোকাবিলায় ভারত, চীন, নেপাল ও ভুটান—এই চার দেশকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন নেপালের বিদেশমন্ত্রী। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, হিমালয় অঞ্চল জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি অরক্ষিত। এখনই যৌথ পদক্ষেপ না নিলে অদূর ভবিষ্যতে এই গোটা অঞ্চলের প্রায় ২০০ কোটি মানুষের সুপেয় জলের চরম সংকট দেখা দিতে পারে এবং তা আস্ত মানব সভ্যতার অস্তিত্বের সংকট ডেকে আনতে পারে।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *