‘পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরও দখল করব আমরা!’ যাদবপুরের মঞ্চ থেকে হুঙ্কার দিয়ে কি বড় বার্তা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী?

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ হাজার কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার এক বিরাট কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠল চত্বর। এই মেগা সমাবেশেই রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে নিশানা করে একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন শুভেন্দু অধিকারী। বিশেষ করে দেশের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রবাদ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে সরাসরি পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (POK) পুনর্দখলের হুঙ্কার দেন তিনি।
যাদবপুরের পরিবেশ নিয়ে তীব্র আক্রমণ
যাদবপুরের কর্মসূচির মঞ্চ থেকে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে তীব্র আক্রমণ শানান শুভেন্দু। তাঁর দাবি, একসময় যে মাটিতে ক্ষুদিরাম বসু, মাতঙ্গিনী হাজরা, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু বা বিনয়-বাদল-দীনেশরা দেশের জন্য লড়ে গিয়েছেন, সেই মাটিতেই আজ তথাকথিত ‘আজাদি’ স্লোগান তোলা হয়। যাদবপুরে থ্রেট কালচারের মাধ্যমে রাষ্ট্রবাদী পরিবারের ছাত্রছাত্রীদের জোর করে নানা মিছিলে নামানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পেলগাও কিংবা অবন্তীপুরার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দেশের জওয়ান বা সাধারণ মানুষ যখন জঙ্গিদের হাতে শহিদ হন, তখন তাঁদের পক্ষে শোকমিছিল করতে দেখা যায় না এই অংশকে। পরিবর্তে যুদ্ধবিরোধী বা অপারেশন সিঁদুরের বিরুদ্ধে মিছিল বের হয়। এই মনোভাবকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে তিনি সাফ জানান, “হয় এরা থাকবে, নয় আমরা থাকব। মাঝে আর কিছু হবে না।”
পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে বড় হুঙ্কার
বক্তব্যের এক পর্যায়ে দেশের সার্বভৌমত্ব ও কঠোর পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে শুভেন্দু অধিকারী হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “অপারেশন সিঁদুরে মাসুদ আজহারের বংশকে নির্বংশ করেছে আমাদের এয়ারফোর্স। আর আমরা পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরও দখল করব।” যাদবপুরের মাটি থেকে তাঁর এই দেশাত্মকবোধক ও আক্রমণাত্মক বার্তা মুহূর্তেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল ফেলে দিয়েছে। কড়া নিরাপত্তার চাদরে মোড়া এই কর্মসূচির প্রতিটি মন্তব্য এখন রাজ্য রাজনীতির হট টপিক।