“প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর দেহদান চিকিৎসা বিজ্ঞানে কোনো কাজেই লাগেনি!” স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বিস্ফোরক মন্তব্যে রাজ্যজুড়ে চরম বিতর্ক

প্রয়াত মার্ক্সবাদী তথা পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর দেহদান নিয়ে এক অত্যন্ত বিস্ফোরক মন্তব্য করে বিতর্কের ঝড় তুললেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, জ্যোতিবাবু দেহদান করলেও চিকিৎসা বিজ্ঞানে তা নাকি শেষ পর্যন্ত কোনো কাজেই লাগেনি! স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই চিকিৎসা মহলে এবং রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।
ঠিক কী বলেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী? একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানান, জ্যোতি বসুর দেহদানকে তিনি অত্যন্ত শ্রদ্ধা করেন, কিন্তু বর্তমান যুগে প্রযুক্তির উন্নতির কারণে পুরো দেহদানের চেয়ে অঙ্গদান অনেক বেশি মূল্যবান। তাঁর যুক্তি, আজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-এর সৌজন্যে মানুষের শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের নিখুঁত থ্রি-ডি (3D) ছবি পাওয়া যাচ্ছে। তাই মৃত্যুর পর শবদেহ সংরক্ষণ করে তা আর আগের মতো শিক্ষার কাজে লাগানোর প্রয়োজন পড়ছে না।
এর পাশাপাশি স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, দেহ সম্পূর্ণ দান করার চেয়ে যদি ব্রেন ডেথের (Brain Death) পর্যায়ে থাকা অবস্থায় অঙ্গগুলি (যেমন- চোখ, কিডনি, হৃৎপিণ্ড বা ফুসফুস) দান করা যেত, তবে তা দিয়ে বহু মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব হতো। তাঁর মতে, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দান হলো অঙ্গদান, সম্পূর্ণ দেহদান নয়।”
চিকিৎসকদের একাংশের তীব্র আপত্তি: স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই দাবির পরেই অ্যানাটমি বিশেষজ্ঞদের একাংশ তাঁর বিরোধিতা করে মুখ খুলেছেন। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে অ্যানাটমি পড়াচ্ছেন ডাঃ শিবশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, বিজ্ঞান যতই এআই বা প্রযুক্তির দিকে এগোয় না কেন, চিকিৎসা বিজ্ঞানের শিক্ষা ক্যাডাভার বা মৃতদেহ ছাড়া কখনোই সম্পূর্ণ হতে পারে না। চিকিৎসকদের মতে, মেডিকেল পড়ুয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন সার্জিক্যাল ট্রেনিংয়ের ক্ষেত্রে মৃতদেহের ডিসেকশন বা প্র্যাক্টিক্যাল কাজের কোনো বিকল্প নেই। অঙ্গদান এবং দেহদানকে কখনই একই মাপকাঠিতে মাপা যায় না।
সব মিলিয়ে, জ্যোতি বসুর দেহদানকে ঘিরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য চিকিৎসা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বর্তমান যুগ নিয়ে এক নতুন ও তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।