“মাথা তুললেই অসহ্য যন্ত্রণা!” দিল্লি-এনসিআর-এর প্রতি ২ জনে ১ জন কেন ভুগছেন এই নিঃশব্দ মহামারীতে?

মাথাব্যথাকে আমরা সাধারণত কাজের ক্লান্তি, কম ঘুম বা সামান্য কোনো সমস্যা ভেবে সহজেই এড়িয়ে যাই। একটু বিশ্রাম নিলেই ঠিক হয়ে যাবে—এমনটাই মনে করেন বেশিরভাগ মানুষ। কিন্তু সাম্প্রতিক একটি বড় মাপের গবেষণা যে তথ্য সামনে এনেছে, তা শুনলে আপনার চোখ কপালে উঠবে। মাথাব্যথা আর কেবল সাধারণ কোনো শারীরিক অস্বস্তি নেই, এটি বর্তমানে এক বিরাট স্বাস্থ্য সংকটের রূপ নিচ্ছে।

দিল্লি-এনসিআর ও গ্রামের চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান: সম্প্রতি রাজধানী দিল্লি এবং সংলগ্ন এনসিআর (NCR) এলাকায় ১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সি মানুষের উপর একটি সমীক্ষা চালানো হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, প্রায় ৬৭.৯ শতাংশ অর্থাৎ প্রতি ১০০ জনের মধ্যে প্রায় ৬৮ জন মানুষ গত এক বছরে কোনো না কোনো ধরনের মাথাব্যথার শিকার হয়েছেন। অন্যদিকে, উত্তর ভারতের গ্রামীণ এলাকার একটি গবেষণাতেও ৫৩.৬ শতাংশ মানুষের মধ্যে এই একই সমস্যার কথা উঠে এসেছে। অর্থাৎ, শহর হোক বা গ্রাম—মাথাব্যথা আজ ঘরে ঘরে জেঁকে বসেছে।

माइগ্রেন নাকি টেনশন হেডেক? আসল বিপদ কোথায়? অনেকেরই ধারণা, মাথাব্যথা মানেই হয়তো মাইগ্রেন। কিন্তু গবেষকদের মতে, মাইগ্রেনের চেয়েও অনেক বেশি সাধারণ হলো ‘টেনশন হেডেক’ বা মানসিক চাপ জনিত মাথাব্যথা

  • দিল্লি-এনসিআর-এর সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় ৩৪.১ শতাংশ মানুষ টেনশন হেডেকের শিকার, যেখানে মাইগ্রেনে আক্রান্তের হার ২৬.৩ শতাংশ।

  • তবে শতাংশের বিচারে কম হলেও, যাঁদের মাইগ্রেন রয়েছে, তাঁদের দৈনন্দিন জীবন ও কাজের ক্ষতি এর ফলে অনেক বেশি হয়।

চিকিৎসা ও ওষুধের অতিরিক্ত ব্যবহার কতটা বিপজ্জনক? গবেষণার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিকটি হলো, সমীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় ২৬ শতাংশ মানুষকে অবিলম্বে কোনো না কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার বা চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, সামান্য মাথাব্যথা হলেই অতিরিক্ত পেইনকিলার বা ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়ার প্রবণতা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে। অতিরিক্ত ওষুধ খাওয়ার ফলে অনেক সময় ‘মেডিকেশন ওভারইউজ হেডেক’ দেখা দেয়, যা যন্ত্রণা কমানোর বদলে উল্টে আরও বাড়িয়ে দেয়।

মাথাব্যথা শুধু সাময়িক শারীরিক কষ্টই বাড়াচ্ছে না, বরং মানুষের কর্মক্ষমতা ও কাজের দিনগুলোও কেড়ে নিচ্ছে। তাই মাথাব্যথাকে আর অবহেলা না করে সময়মতো সতর্ক হওয়া এবং সঠিক জীবনধারা অনুসরণ করাই এখন একমাত্র প্রতিকার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *