“আগামী দিনে হু হু করে বাড়বে চাল-ডাল-সবজির দাম!” কোন ৫ রাজ্যের খামখেয়ালি আবহাওয়া কাঁপিয়ে দিচ্ছে গোটা দেশকে?

একদিকে দেশের একাধিক রাজ্যে প্রবল বর্ষণ এবং বন্যার জেরে জনজীবন বিপর্যস্ত, অন্যদিকে বিশেষজ্ঞদের কপালে গভীর ভাঁজ ফেলে সামনে আসছে এক উদ্বেগজনক তথ্য। প্রশ্ন উঠছে, যখন চারপাশে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে, তখন হঠাৎ কেন দেশের খাদ্যশস্য ও কৃষি উৎপাদন নিয়ে তীব্র সংকটের কথা বলা হচ্ছে?
আসল রহস্য কোথায়? ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ অ্যাপ্লাইড ইকোনমিক রিসার্চ (NCAER)-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, চলতি বছরের মনসুন বা বর্ষাকাল সারা দেশে এক সমান হয়নি। অর্থাৎ জাতীয় স্তরের বৃষ্টির গড় হিসাব দেখলে যা মনে হয়, বাস্তব চিত্রটা তার চেয়ে অনেক আলাদা। মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, রাজস্থান এবং গুজরাটের মতো প্রধান কৃষিপ্রধান রাজ্যগুলিতে পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে খরা বা জলসংকটের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
কেন এই ৫ রাজ্যের খরা জাতীয় উদ্বেগের বিষয়?
-
দেশের মোট খাদ্যশস্য উৎপাদনের প্রায় ৩২ শতাংশ বা তারও বেশি অংশ এককভাবে এই পাঁচটি রাজ্য থেকে আসে।
-
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট উৎপাদিত প্রায় ৩৫.৭৭ কোটি টনের মধ্যে এই পাঁচ রাজ্যেই প্রায় ১১.৫৮ কোটি টন খাদ্যশস্য উৎপাদিত হয়।
-
কিন্তু খামখেয়ালি বৃষ্টির জেরে বর্তমানে মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, রাজস্থান ও গুজরাটের কৃষি জমি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
শুধু বৃষ্টি হওয়া মানেই কি ভালো ফলন? কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু সারা মাসে কতটা বৃষ্টি হলো সেটাই বড় কথা নয়, বরং সঠিক সময়ে সঠিক পরিমাণে জল পাওয়াটাই আসল। যদি এক বা দু’দিনে অতিরিক্ত বৃষ্টি হয়ে বাকি মাস শুকনো থাকে, তবে তা চাষের উপকারে আসে না, বরং ফসলের ক্ষতি করে। এ বছর ঠিক এই কারণেই ধান বা গমের পাশাপাশি সয়াবিন, ভুট্টা এবং অড়হরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ডাল ও ফসলের উৎপাদন মার খাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এর সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে সাধারণ মানুষের পকেটে। যদি এই রাজ্যগুলিতে সময়মতো পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, তবে আগামী দিনে বাজারে চাল, ডাল, তেল সহ সমস্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।