“পরকীয়া ও রোমান্টিক কনটেন্ট বাড়াচ্ছে অপরাধ?” নাটক-সিনেমা নিয়ে চাঞ্চল্যকর আইনি পদক্ষেপে তোলপাড়!

দেশের টেলিভিশন ও অডিওভিজ্যুয়াল মাধ্যমে প্রেমভিত্তিক চলচ্চিত্র এবং নাটক নির্মাণ ও সম্প্রচারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের দাবি জানিয়ে একটি আইনি নোটিশ পাঠানোর ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিনোদন জগতের শীর্ষস্থানীয় সাতটি সংগঠন। এই উদ্যোগকে সৃজনশীল শিল্পের বিকাশের পরিপন্থী বলে আখ্যা দিয়েছেন শিল্পীরা।
ঠিক কী দাবি জানানো হয়েছে নোটিশে? সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাহমুদুল হাসান মামুন সরকারের তিন সচিব (মন্ত্রিপরিষদ, তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক সচিব) ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর একটি আইনি নোটিশ পাঠান। ওই নোটিশে দাবি করা হয় যে, বর্তমান নাটক ও সিনেমায় অতিরিক্ত রোমান্টিক কনটেন্ট, পরকীয়া ও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে মহিমান্বিত করা হচ্ছে, যা সমাজের নৈতিক কাঠামো ও যুবসমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর প্রতিকার হিসেবে শুধু প্রেমভিত্তিক নাটক-সিনেমা বন্ধ এবং বিজ্ঞান, ইতিহাস বা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাণের বাধ্যতামূলক নির্দেশ জারির দাবি জানানো হয়। নোটিশ পাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে পদক্ষেপ না নিলে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট করার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
একজোট হয়ে তীব্র প্রতিবাদ বিনোদন জগতের এই আইনি নোটিশের পরেই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে যৌথভাবে প্রতিবাদলিপি পাঠিয়েছে টেলিভিশন নাটকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাতটি প্রধান সংগঠন। প্রতিবাদলিপিতে স্বাক্ষর করেছেন ডিরেক্টর্স গিল্ড, অভিনয়শিল্পী সংঘ, টেলিভিশন নাট্যকার সংঘ, ক্যামেরাম্যান অ্যাসোসিয়েশন, টেকনিক্যাল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর্স অর্গ্যানাইজেশন এবং মেকআপ আর্টিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
সংগঠনগুলোর স্পষ্ট বক্তব্য, ‘‘রোমান্টিক নাটক বা সিনেমা নির্মাণকে সামগ্রিকভাবে বন্ধ করার দাবি কোনোভাবেই সৃজনশীল শিল্পের বিকাশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’’ তাঁরা জানান, কোনো নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে আপত্তি থাকলে তা প্রচলিত আইনি কাঠামোর আওতায় সমাধানের সুযোগ রয়েছে, কিন্তু একটি সৃজনশীল মাধ্যমের নির্দিষ্ট ধারা নিষিদ্ধ করলে তা এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান ও স্বাধীনতার ওপর বড় আঘাত হানবে। দায়িত্বশীল ও মানসম্মত কনটেন্ট নির্মাণের পক্ষে সওয়াল করার পাশাপাশি বিনোদন জগতের সুরক্ষায় তারা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।