সময়মতো ইএমআই দিয়েও হু হু করে নামছে ক্রেডিট স্কোর! অজান্তেই এই মারাত্মক ভুলগুলো করছেন না তো?

সময়মতো সমস্ত ইএমআই বা কিস্তি পরিশোধ করার পরেও হঠাৎ করে ক্রেডিট স্কোর কমে যাওয়ার সমস্যায় আজকাল বহু মানুষই জর্জরিত। সময়মতো পেমেন্ট করার পরও কেন স্কোর নামছে, তা নিয়ে অনেকেরই মাথাব্যথার শেষ থাকে না। আসলে ক্রেডিট স্কোর কেবল কিস্তি পরিশোধের ওপর নির্ভর করে না, এটি আপনার সামগ্রিক আর্থিক অভ্যাসের একটি নিখুঁত প্রতিচ্ছবি। সামান্য কিছু অসাবধানতা বা ভুলের কারণে আপনার ক্রেডিট স্কোর নীরবে কমতে থাকে, যার জেরে ভবিষ্যতে লোন রিজেক্ট হওয়া কিংবা চড়া সুদের মুখে পড়ার বড় ঝুঁকি তৈরি হয়।

কোন কোন ভুলের কারণে আপনার ক্রেডিট স্কোর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তা জেনে নেওয়া যাক:

ক্রেডিট কার্ডের অতিরিক্ত ব্যবহার: আপনার ক্রেডিট লিমিট ১ লাখ টাকা মানেই প্রতি মাসে ৮০,০০০ থেকে ৯০,০০০ টাকা খরচ করা নয়। ব্যাংকগুলি একে ‘অতিরিক্ত আর্থিক নির্ভরশীলতা’ হিসেবে দেখে। নিয়ম অনুযায়ী, মোট লিমিটের মাত্র ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ব্যবহার করা উচিত। খরচ ৭০ শতাংশের বেশি হলে ব্যাংকের সিস্টেমে ঝুঁকির সংকেত তৈরি হয়, যা সরাসরি স্কোর কমিয়ে দেয়।

বারবার ঋণের জন্য আবেদন: লোন দ্রুত অনুমোদনের আশায় অনেকে একসঙ্গে একাধিক ব্যাংকে আবেদন করেন। প্রতিবার এমন করলে ক্রেডিট রিপোর্টে একটি করে ‘হার্ড ইনকোয়ারি’ যুক্ত হয়, যার ফলে ব্যাংকগুলির কাছে আপনার প্রোফাইল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

পুরোনো ক্রেডিট কার্ড বন্ধ করা: অনেকে ব্যবহার না করা পুরোনো ক্রেডিট কার্ড বন্ধ করে দেন, যা একটি বড় ভুল। পুরোনো অ্যাকাউন্টগুলি আপনার ক্রেডিট হিস্ট্রিকে মজবুত করে এবং ‘ক্রেডিট এজ’ বাড়াতে সাহায্য করে। পুরোনো হিস্ট্রি মুছে ফেললে আপনার প্রোফাইল দুর্বল হয়ে পড়ে। এছাড়া শুধুমাত্র পার্সোনাল লোন বা ক্রেডিট কার্ডের মতো অসুরক্ষিত লোন থাকলে স্কোর কমে যেতে পারে। ভালো স্কোরের জন্য সুরক্ষিত ও অসুরক্ষিত লোনের ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।

রিপোর্টে লুকানো অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি: অনেক সময় আপনার কোনো দোষ না থাকলেও সিস্টেমের ত্রুটির কারণে স্কোর কমে যেতে পারে। অন্য কারও লোন আপনার নামে রেজিস্টার হওয়া, বন্ধ হয়ে যাওয়া পুরোনো লোন এখনও সক্রিয় দেখানো বা ভুল ব্যালেন্স এন্ট্রি এর বড় কারণ। তাই প্রতি ৩ থেকে ৬ মাস অন্তর নিজের ক্রেডিট রিপোর্ট চেক করা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে ব্যাংকগুলি এআই-ভিত্তিক স্কোরিং সিস্টেম ব্যবহার করায় সামান্য ভুলও সঙ্গে সঙ্গে ধরা পড়ে। ৭৫০ বা তার বেশি নিরাপদ স্কোর বজায় রাখতে খরচ সবসময় সীমার মধ্যে রাখা বাঞ্ছনীয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *