ঋতুবন্ধের আগেই হানা দেয় এই মারাত্মক সমস্যা! মহিলারা কেন এগুলি এড়িয়ে যান? জানলে চমকে উঠবেন

মেনোপজ বা ঋতুবন্ধ হলো নারীদের জীবনের একটি স্বাভাবিক শারীরিক পরিবর্তন, যেখানে টানা ১২ মাস মাসিক বন্ধ থাকে। কিন্তু মেনোপজের ঠিক আগেই নারীদের যে ‘পেরিমেনোপজ’ দশার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, সে বিষয়ে সচেতনতা অত্যন্ত কম। শরীরের হরমোনের এই পালাবদল এবং তার লক্ষণগুলি নিয়ে টিভি৯-এর মুখোমুখি হয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন যথার্থ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের পরিচালক ডা. রুচি ভান্ডারী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মেনোপজ শুরুর আগেই শরীরে হরমোনের পরিবর্তন দানা বাঁধতে শুরু করে, যা পেরিমেনোপজ নামে পরিচিত। এই সময়ে ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরনের মাত্রা ওঠানামা করায় মাসিকের ধরনে বড় পরিবর্তন আসে।

পেরিমেনোপজের প্রধান লক্ষণগুলি কী কী?

অনিয়মিত মাসিক: এই দশার সবচেয়ে বড় লক্ষণ হলো অনিয়মিত পিরিয়ড। কখনো সময়ী আগে, আবার কখনো দীর্ঘ বিরতির পর রক্তপাত হতে পারে। রক্তপাতের পরিমাণেও তারতম্য দেখা যায়।

শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন: হট ফ্ল্যাশ, রাতে অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, ঘুমের সমস্যা, মেজাজের হঠাৎ পরিবর্তন, খিটখিটে ভাব, ক্লান্তি এবং মনোযোগের অভাব দেখা দিতে পারে।

অন্যান্য উপসর্গ: যোনিপথের শুষ্কতা, মিলনে অস্বস্তি, ত্বকের পরিবর্তন এবং ওজন ও শারীরিক গঠনে আকস্মিক পরিবর্তন আসতে পারে।

সব নারীর ক্ষেত্রে লক্ষণগুলি এক রকম হয় না। কারো ক্ষেত্রে এগুলি মৃদু হলেও, অনেকের দৈনন্দিন জীবনে এর মারাত্মক প্রভাব পড়ে। তাই একে কেবল বয়সের স্বাভাবিক ছাপ হিসেবে উড়িয়ে দেওয়া ভুল।

৩৫ থেকে ৪০ বছরে সচেতনতা জরুরি
চিকিৎসকদের মতে, মধ্যবয়সী মহিলাদের জন্য এই সময়ে সক্রিয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুষম খাবার, পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম গ্রহণ, নিয়মিত এক্সারসাইজ, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ কমানো দরকার। এছাড়া এই বয়সে হাড় ও হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য, ওজন এবং রক্তচাপ নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত।

পেরিমেনোপজ নিয়ে সমাজে নানা ভুল ধারণাও রয়েছে। প্রতিটি হরমোন পরিবর্তনই যে অসুস্থতা বা সকলের হরমোন থেরাপির প্রয়োজন, এমন নয়। তবে অতিরিক্ত বা অস্বাভাবিক রক্তপাত হলে, কিংবা উপসর্গগুলি অসহ্য হয়ে উঠলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সঠিক তথ্য ও জীবনযাত্রার মাধ্যমে এই পরিস্থিতি সহজেই সামাল দেওয়া সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *