“চোখের পলকে সব শেষ!”-নেপালের বাজারে হড়পা বানের জল ঢোকার ভাইরাল ভিডিও

দোকানপাট খোলা, চারদিকে কেনাকাটার চেনা ব্যস্ততা—নেপালের নুওয়াকোট জেলার ত্রিশূলি বাজারে সেদিনও আর পাঁচটা দিনের মতোই স্বাভাবিক জনজীবন ছিল। কিন্তু সেই চেনা ছবি বদলে যেতে সময় লাগল মাত্র কয়েক মুহূর্ত। পাহাড়ের বুক চিরে জল ও কাদার বিশাল ঢেউ আছড়ে পড়ার সেই মুহূর্তটির একটি রোমহর্ষক ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, যা দেখে শিউরে উঠছেন নেটিজেনরা।

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটিতে দেখা গিয়েছে, মুহূর্তের মধ্যে জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় কীভাবে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। প্রাণ বাঁচাতে কেউ কোলের সন্তানকে আঁকড়ে ধরেছেন, কেউ আবার বৃদ্ধা মায়ের হাত ধরে ছুটছেন রাস্তা ধরে। কেউ গাড়ি বা মোটরবাইকে করে নিরাপদ আশ্রয়ে পালানোর চেষ্টা করছেন, তো কেউ আবার অসহায়ের মতো এদিক-ওদিক তাকাচ্ছেন। আটকে পড়েছিল একটি স্কুলবাসও। চোখের পলকে মানুষের চিৎকার আর আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ।

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে নেমে আসা এই ভয়াবহ হড়পা বানে এখনও পর্যন্ত ৪৭৫ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন সাড়ে সাতশোতের বেশি মানুষ। বুধবারের ওই আকস্মিক বিপর্যয়ে ত্রিশূলি বাজারের মতো একাধিক জনপদ কার্যত মানচিত্র থেকে মুছে গিয়েছে। রেড ক্রসের আশঙ্কা, নুওয়াকোটের বহু গ্রাম এখন কেবলই ধ্বংসস্তূপ ও কাদার চাদর। রাস্তাঘাট ও সেতু ভেসে যাওয়ায় যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

পরিস্থিতি পরিদর্শনে বৃহস্পতিবারই বন্যাবিধ্বস্ত নুওয়াকোটে পৌঁছন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ। ভয়াবহ এই পরিস্থিতিকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘প্রশাসন পূর্ণ শক্তি দিয়ে কাজ করছে। আমাদের লক্ষ্য প্রতিটি নাগরিকের জীবন বাঁচানো।’ নিখোঁজদের উদ্ধার এবং দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ পৌঁছানোর কাজ জোরকদমে চলছে। তবে কোলাহলে ভরা ত্রিশূলি বাজারে এখন শুধু পড়ে রয়েছে কাদা, পাথর আর নিখোঁজ প্রিয়জনদের অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলির দীর্ঘশ্বাস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *