নেপাল দেশটার আদৌ আর অস্তিত্ব রয়েছে? দেখেনিন ধংসলীলার ১২ টি ভয়ঙ্কর ছবি

প্রাকৃতিক তাণ্ডবে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে নেপাল ও তিব্বত সীমান্ত। হিমবাহ ধসে সৃষ্টি হওয়া ভয়াবহ হড়পা বানে এখনও পর্যন্ত ৪৬৯ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

তবে দুভার্গ্যজনকভাবে এই সংখ্যা আরও লাফিয়ে বাড়তে পারে, কারণ সরকারি ও বেসরকারি হিসাব অনুযায়ী এখনও প্রায় ১,৫০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

লাংটাং লিরুং পর্বতমালার বিশাল হিমবাহ ও পাথরের অংশ ভেঙে লেন্দে নদীতে পড়ার ফলেই এই আকস্মিক ও ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসে বলে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা কেবল নেপালের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ইউক্রেন, মালয়েশিয়া সহ বিশ্বের প্রায় ৩০টি দেশের নাগরিক এই বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন।

ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, কৈলাস মানস সরোবর তীর্থযাত্রী ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মীসহ প্রায় ৩০০ ভারতীয় নাগরিকের এখনও কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

মার্কিন নাগরিকদের পাশাপাশি প্রায় ৩৩ জন ব্রিটিশ এবং ডজন ডজন ইউরোপীয় ও এশীয় পর্যটকও নিখোঁজের তালিকায় রয়েছে। আন্তর্জাতিক স্তরে এই চরম সংকটের মুখে নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন দেশ।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৫ লক্ষ ডলার, ব্রিটেন ৫০ লক্ষ পাউন্ড এবং শ্রীলঙ্কা ১০ লক্ষ ডলার আর্থিক সহায়তা ও ত্রাণ পাঠানোর ঘোষণা করেছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহের সঙ্গে কথা বলে সমস্ত রকম মানবিক ও উদ্ধার সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। ইতোমধ্যে ভারতীয় উদ্ধারকারীরা ৮৪ জন নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করেছেন।

তবে প্রথম দফার এই ধ্বংসলীলার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে ঘনিয়েছে আরও এক বিরাট বিপদ।

ভোটকোশি নদীর উজানে পলি ও আবর্জনা জমে তৈরি হওয়া একটি বিশাল ‘ব্যারিয়ার লেক’ বা হ্রদ আগামী দিনে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

চিনা আধিকারিকদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, ওই হ্রদে ইতিমধ্যেই ২০ লক্ষ ঘনমিটার জল জমেছে এবং আগামী তিন দিনে আরও ৩০ লক্ষ ঘনমিটার জল যুক্ত হয়ে প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

নেপাল ও তিব্বতের নীচু এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

এই আকস্মিক মহাপ্রলয়ে নেপালের অর্থনীতি ও পর্যটন শিল্পও সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে, যার ফলে উৎসবের মরসুমে সমস্ত বুকিং বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছেন পর্যটকরা।