অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর! ক্যামাক স্ট্রিটের হোর্ডিং কাণ্ডে চাঞ্চল্যকর মোড়

ক্যামাক স্ট্রিটে হোর্ডিং অপসারণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া আইনি সংঘাতে এবার সরাসরি নাম জড়াল শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বের। কলকাতা পুরসভার বিজ্ঞাপন বিভাগের ডেপুটি ম্যানেজার সুদীপ কুমার বসু ও পার্ক স্ট্রিট থানার সার্জেন্টের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, হুমায়ুন কবীর, বিশ্বনাথ চট্টোপাধ্যায়সহ একাধিক সমর্থকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৭ আগস্ট দুপুর তিনটে নাগাদ। কলকাতা পুরসভার নির্দেশ অনুযায়ী, ৯, ক্যামাক স্ট্রিটের একটি বহুতলের উপর থেকে বিপজ্জনকভাবে ঝুলে থাকা একটি বিশাল হোর্ডিং সরাতে যান পুরসভার আধিকারিক ও কর্মীরা। সঙ্গে ছিল পুলিশবাহিনীও। অভিযোগ, সেই সময় অভিযুক্তরা বেআইনিভাবে জমায়েত হয়ে পুরসভার আধিকারিক ও পুলিশকর্মীদের ওপর চড়াও হন এবং সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি করেন। শুধু তাই নয়, পুরকর্মীদের মারধর করার পাশাপাশি সরকারি সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং আধিকারিকদের ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আক্রান্ত হন খোদ পুলিশকর্মীরাও। পার্ক স্ট্রিট থানার সার্জেন্ট সুজিত কুমার মণ্ডল, এসআই ডিকে শ এবং কনস্টেবল অমিতাভ সাহা গুরুতর আহত হন। অভিযোগ, কর্তব্যরত পুলিশের ওয়াকিটকি ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং তাঁদের ওপর চড়াও হয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করা হয়। পরে আহত পুলিশকর্মীদের দ্রুত সিএনএমসি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানো হয়।
এই ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৯১(২), ১৯১(৩), ১৯০, ১২১(১), ৩৫১(২), ৩০৩(২) এবং ৩(৫) ধারা। বেআইনি জমায়েত, সরকারি কাজে বাধা, সরকারি কর্মচারীকে দায়িত্ব পালনে বিরত রাখতে আক্রমণ এবং ছিনতাইয়ের মতো গুরুতর অভিযোগে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। হোর্ডিং বিতর্ককে কেন্দ্র করে এই আইনি পদক্ষেপের ফলে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।